জামালপুর ইউনিয়ন পরিষদের পুকুর খননের মাটি যাচ্ছে চেয়ারম্যানের ভাটায়!
- আপডেট সময় : ০৭:০৩:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ এপ্রিল ২০২৩ ২৪৪ বার পঠিত

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার জামালপুর ইউনিয়ন পরিষদের সরকারি পুকুর ভেকু দিয়ে খনন করে সেই মাটি চেয়ারম্যানের নিজের ইটভাটায় নিচ্ছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। প্রকাশ্যে মাটি কেটে নেওয়া হলেও দেখার কেউ নেই।
রবিবার( ২ এ এপ্রিল) সকালে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, বালিয়াকান্দি উপজেলার জামালপুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনের পুকুরে ঘাটলা নির্মাণের জন্য কাজ করছেন কয়েকজন রাজমিস্ত্রি।
পুকুরে ২টি ভেকু নামিয়ে মাটি কেটে ট্রাকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ট্রাক চালকদের মাটি নেওয়ার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তারা বলেন, চেয়ারম্যান তার টাকায় মাটি কেটে ভাটায় নিয়ে যেতে বলেছে। আমরা চেয়ারম্যানের নির্দেশে ভাটায় মাটি নিচ্ছি এবিষয়ে কোনো কথা থাকলে চেয়ারম্যানের সাথে বলেন।
এসময় কয়েকজন স্থানীয়দের সাথে কথা হলে তারা নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, প্রায় ৬-৭দিন পুকুরে দুটি ভেকু নামিয়েছেন চেয়ারম্যান। কিন্তু বৃষ্টির কারণে ২দিন বন্ধ থাকার পর আবারও পুকুর থেকে মাটি কেটে ইটভাটায় নিচ্ছেন। আসলে পুকুরটি এমনিতেই গভীর ছিল। যে ভাবে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে এতে বর্ষা মৌসুমে পার ভেঙ্গে আশপাশের লোকজন ক্ষতিগ্রস্থ হবে। বিষয়টি প্রশাসনকে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানাচ্ছি।
জামালপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. মনিরুজ্জামান রানা বলেন, উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে ঘাটলা নির্মাণ করা হচ্ছে। তবে পুকুর খননে কোন প্রকল্প আছে কিনা জানি না। বিষয়টি চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলার কথা বলে এড়িয়ে যান।
জামালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি একেএম ফরিদ হোসেন বাবু বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের পুকুরে উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে সাড়ে ৬ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ঘাটলা নির্মাণ কাজ চলছে। মাটি দিয়ে সমান করার জন্য ভেকু নামানো হয়েছে। ওই মাটি কাদা থাকায় সরিয়ে পাশে ফেলা হয়েছে। আর বাইরে থেকে কিছু মাটি ঘাটলার কাছে দেওয়া হয়েছে।
তবে তার ইট ভাটায় মাটি নেওয়ার বিষয়টি বললে তিনি বলেন, এখানে আর কয় গাড়ী মাটি হবে। সুন্দর্য্য বর্ধনের জন্য ভেকু দিয়ে মাটি ঠিক করা হচ্ছে। মাটি কাটতে কোন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়নি।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রফিকুল ইসলাম বলেন, জামালপুর ইউনিয়ন পরিষদের পুকুরের ঘাট নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। তবে পুকুর খননের বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে সত্যতা পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




















