কেক বানিয়ে সফল উদ্যোক্তা চৌদ্দগ্রামের সুমাইয়া ইসলাম
- আপডেট সময় : ১১:৫৭:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৩ ২১৬০ বার পঠিত

সুমাইয়া ইসলাম বলেন, খুব ছোট বেলা থেকেই আমি বেকিং নিয়ে কাজ করার স্বপ্ন দেখতাম।
লেখাপড়ার পাশাপাশি মাঝে মাঝে টুকটাক বাসায় চেষ্টা করতাম।আস্তে আস্তে হাজবেন্ড, শ্বশুর, আমার পরিবার আমাকে বলতে লাগলো তুমি কাজটা মন দিয়ে করার চেষ্টা করো একদিন হয়তো এটা দিয়ে তুমি সফল হতে পারবে।
তাদের উৎসাহ পেয়ে আমি ইউটিউব দেখে বেকিং এর কাজ গুলো আরো ভালোভাবে করার চেষ্টা করতে লাগলাম।খুব কম সময়ে বেকিং এর সব কাজ আসার শিখা হয়ে গেলো। নিজের ভাই,বন্ধুদের জন্মদিনে কেক পাঠিয়ে সবার প্রশংসা পেলাম এবং তারা সব সময় বলতো একটা পেইজ খোলেন একদি ভালো কিছু হবে তখনো ভাবতাম হয়তো আমি পারবোনা। কারন ২০২০ সালে তখনো মানুষ জানতোনা অনলাইন কি?
আমার শ্বশুর প্রায় বলতো তুমি ভালো কিছু করতে পারবে চেষ্টা করে যাও, একদিন আমার হাজবেন্ড বলেছে একটা পেইজ খোলো আসা করি ভালো কিছু হবে।
শখের বসেই হাজবেন্ডের সাপোর্ট পেয়ে ২০২০ সালের জুন এর ২৭ তারিখ একটি পেইজ খুলেছি, তার নাম দিয়েছিলাম ‘Sumiaya’S Cook House’ প্রথমেই আমি শুরু করেছিলাম কাচ্চি,মোরগ পোলাউ,তেহারি ও ডেজার্ট আইটেম দিয়ে। পেইজ খোলা ৩-৪ দিন পরে হঠাৎ Chauddagram Help line নামের একটি গ্রুপ আমার চোখে পড়েছিলো সেটিতে জয়েন করলাম।সপ্তাহিক উদ্যোক্তা পোষ্টের নিয়ম ছিলো সেই দিন প্রথম পোষ্ট করেই আমি ২ জন কাষ্টমার পেয়েছিলাম।
এভাবেই আস্তে আস্তে আমার অর্ডার আসতে শুরু হলো। হঠাৎ ২ মাস পরে একটি অর্ডার আসছিলো ২০ জনের কাচ্ছি,২০ জনের ফিরনি,২০ জনের জর্দার জন্য তবে শর্ত ছিলো আমি যদি ৩ পাউন্ডের ১ টি কেক দিতে পারি তবেই কাষ্টমার বাকি সব অর্ডার কনফার্ম করবে।
যেহেতু আমার উদ্যোক্তা জীবনের এটাই বড় অর্ডার তাই রিক্স নিয়ে বলেছি আচ্ছা ভাইয়া আমি আমি কেক রেডি করে দিবো, আলহামদুলিল্লাহ রিভিও অনেক ভালো এসেছে।তাদের সেই পোগ্রাম থেকে আমার আরো নতুন নতুন কাষ্টমার তৈরি হলো।
আসতে আসতে সপ্তাহে ১-২ টা কেক এর অর্ডার আস্তে লাগলো ৩ মাস পরে দেখি কেক এর চাহিদা এত বাড়লো পরে আমি খাবারের কাজটা অফ করে দিলাম। বেকিং এ আমার আশক্তি বেড়ে গেলো অর্ডার ভাড়তে থাকলো। এই সব কিছুতে মানসিক সাপোর্ট,কেক ডেলিভারি করা সব কিছু করেছিলো আমার হাজবেন্ড রাশেদুল ইসলাম। সে আমাকে প্রায় সময় বলতো একদিন তোমার খুব পরিচিতি হবে তুমি সফল হবে।
আলহামদুলিল্লাহ এখন আমার প্রতিমাসে ১০/১২ হাজার টাকা ইনকাম হয়। বেকিং জগতে এসেছি ৩ বছর চলছে এখন আমি একজন সফল নারী উদ্যোক্তা এবং চৌদ্দগ্রামে বেকিং এর প্রশিক্ষন হিসেবে কাজ করছি ১ম ব্যাচ এর কাজ শেষ করেছি।
আমরা আজকের এতদূর আসার পিছনে সব থেকে বড় অবদান আমার হাজবেন্ডের রাশেদুল ইসলাম এর।
সুমাইয়া ইসলাম আরো বলেন, চৌদ্দগ্রামের যে সকল নারী বেকার বসে আছেন ঘরে বসে কিছু করতে চান, চাইলে আপনি ও আমাদের কাছে কোর্স করে একজন সফল নারী উদ্যোক্তা হতে পারেন।




















