ঢাকা ০৯:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আলফাডাঙ্গায় নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা শুরু নাগেশ্বরীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেনের মৃত্যু রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন ফরিদপুর‌ পৌরসভার ‌ সাবেক ১ নং ‌ প্যানেল মেয়র মনিরুল ইসলাম মনির গ্রেপ্তার কুষ্টিয়ার সাংবাদিকতার উজ্জ্বল নক্ষত্র প্রবীণ সাংবাদিক নুরুননবী বাবু সালথায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার দৌলতদিয়ায় পার্কিং করা যাত্রীবাহি বাসে আগুন  নাগেশ্বরীতে ৭ দফা দাবিতে দলিল লেখক সমিতির প্রতিবাদ সভা দেবহাটায় পুলিশের অভিযানে ১জন আসামি গ্রেপ্তার খালের ইজারা বাতিল ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্তের দাবিতে দেবহাটায় মানববন্ধন নওগাঁয় ট্রাক-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে সড়ক বিভাগের প্রকৌশলী নি-হ-ত

মোস্তফা খানের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

মোঃ শাহাদাত হোসাইন- শরণখোলা (বাগেরহাট):
  • আপডেট সময় : ০৬:৪০:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৪ ১১২ বার পঠিত

বাগেরহাটের শরণখোলায় গত ৩১ ডিসেম্বর রাতে জমা জমি সংক্রান্ত বিরোধী ঘটনায় প্রতিপক্ষের হামলায় একটি পা বিচ্ছিন্ন সহ গুরুতর জখম হয় এমাদুল হক খান।

এ ঘটনায় তার ভাই রিয়াদুল ইসলাম বাদী হয়ে ৪/৫ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করে শরণখোলা থানায়। সেই মামলায় গ্রেপ্তার হন মোস্তফা হেলাল সহ তিন জন। পরে কোর্ট থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে বাদী সহ তার পরিবারকে মামলা তুলে না নিলে প্রাণনাশের হুমকি দেয় মোস্তফা ও তার জামাই রহমান হাওলাদার।

এ ঘটনায় এমাদুলের মা বোন ও স্থানীয় ইউপি সদস্য সহ শতাধিক নারী পুরুষ মোস্তফা সহ অন্যান্যদের বিচারের দাবিতে ১৩ ডিসেম্বর সকাল ১১ টায় শরণখোলা গ্রামে তাদের বাড়ির সামনে মানববন্ধন করেছে।

এমাদুলের পরিবার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিনের জমি জমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ৩১ ডিসেম্বর রাতে এশার নামাজ পড়ে বাড়ি ফেরার সময় এমাদুল হক খানের চাচাতো ভাই মোস্তফা খান তার জামাই রহমান হাওলাদার ও মোস্তফার ছেলে বেলাল, হেলাল খান ও সরোয়ার হাওলাদার মিলে চাইনিজ কুড়াল ও দা দিয়ে কুপিয়ে একটি পা প্রায় শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে এছাড়া অন্য একটি পা ভেঙ্গে ফেলা সহ বেশ কয়েক জায়গায় গুরুতর জখন করে। পরে গুরুতর অবস্থায় শরনখোলা হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে।

পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে প্রেরণ করে ডাক্তার। তার পরিবার আরো জানায় যে পা প্রায় বিচ্ছিন্ন সেই পায়ে সামান্য পচন ধারায় আরো উপর থেকে তার পা কেটে ফেলা হয়েছে।

এ ঘটনায় এবাদুলের ভাই রিয়াদুল ইসলাম খান বাদী হয়ে শরণখোলা থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ তাৎক্ষণিক একজনকে গ্রেফতার করে পরে তারা কোর্টে জামিন পেয়ে বাড়িতে ফিরে এসে এমাদুল ও তার পরিবারকে মামলা তুলে নেয়ার জন্য ভয়-ভীতি প্রদর্শন সহ জীবননাশের হুমকি দেয়। এ ঘটনায় স্থানীয় ইউপি সদস্য বাচ্চু মুন্সী, এমাদুলের মা, বোন সহ শতাধিক নারী পুরুষ মোস্তফা খান ও তার জামাই রহমানের বিচার চেয়ে শরণখোলার নিজ গ্রামে বাড়ির সন্মুখে মানববন্ধন করেছে।

এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডে ইউপি সদস্য বাচ্চু মুন্সী জানায়, মোস্তফা খান, তার ভাইয়েরা ও তার জামাই অত্যন্ত দুর্ধর্ষ প্রকৃতির তাদের বিরুদ্ধে এ ধরে অপরাধ করার আরো অভিযোগ রয়েছে তারা প্রতিনিয়ত ওই পরিবারটিকে হুমকি দিয়ে আসছে তাই প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন তিনি।

এছাড়া গুরুতর জখম এমাদুলের মা হালিমা বেগম, বোন শিউলি ও কাজল জানায়, তারা মোস্তফা খান ও তার ছেলের ভয়ে রাত্রে ঘর থেকে বের হইতে পারছে না তাদের প্রতিদিন হুমকি দিচ্ছে এ ঘটনায় তারা পুলিশ প্রশাসন সহ উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন। ঘটনার প্রদক্ষদর্শী রাহিলা বেগম বলেন এরকম নৃশংস ঘটনা তিনি জীবনে কখনোই দেখেননি সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী প্রতিবেশী রফেজ উদ্দিন খান বলেন, ইমাদুলের চিৎকারের শব্দ পেয়ে আমরা ছুটে আসলে আমরা ইমাদুলকে মুমূর্ষু অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখি এবং মোস্তফা খান এবং তার দুই ছেলেকে ধারালো দা নিয়ে পালিয়ে যেতে দেখি। এই ঘটনার বিষয়ে আমরা মামলার সাক্ষী হওয়ায় মোস্তফা খান আমাকে ধারালো দা নিয়ে ধাওয়া করে। এরকম কর্মকাণ্ড তারা এর আগেও অনেকবার করেছে কিন্তু কেউ তাদের বিচার করছে না।
আমরা এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

এ ব্যাপারে শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ এএইচ এম কামরুজ্জামান বলেন, জামিনে ছাড়া পেয়ে আসামিরা ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছে বিষয়টি তিনি জানেন না। তবে খোঁজখবর নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিবেন বলে তিনি জানান।

মোস্তফা খানের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

আপডেট সময় : ০৬:৪০:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৪

বাগেরহাটের শরণখোলায় গত ৩১ ডিসেম্বর রাতে জমা জমি সংক্রান্ত বিরোধী ঘটনায় প্রতিপক্ষের হামলায় একটি পা বিচ্ছিন্ন সহ গুরুতর জখম হয় এমাদুল হক খান।

এ ঘটনায় তার ভাই রিয়াদুল ইসলাম বাদী হয়ে ৪/৫ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করে শরণখোলা থানায়। সেই মামলায় গ্রেপ্তার হন মোস্তফা হেলাল সহ তিন জন। পরে কোর্ট থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে বাদী সহ তার পরিবারকে মামলা তুলে না নিলে প্রাণনাশের হুমকি দেয় মোস্তফা ও তার জামাই রহমান হাওলাদার।

এ ঘটনায় এমাদুলের মা বোন ও স্থানীয় ইউপি সদস্য সহ শতাধিক নারী পুরুষ মোস্তফা সহ অন্যান্যদের বিচারের দাবিতে ১৩ ডিসেম্বর সকাল ১১ টায় শরণখোলা গ্রামে তাদের বাড়ির সামনে মানববন্ধন করেছে।

এমাদুলের পরিবার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিনের জমি জমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ৩১ ডিসেম্বর রাতে এশার নামাজ পড়ে বাড়ি ফেরার সময় এমাদুল হক খানের চাচাতো ভাই মোস্তফা খান তার জামাই রহমান হাওলাদার ও মোস্তফার ছেলে বেলাল, হেলাল খান ও সরোয়ার হাওলাদার মিলে চাইনিজ কুড়াল ও দা দিয়ে কুপিয়ে একটি পা প্রায় শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে এছাড়া অন্য একটি পা ভেঙ্গে ফেলা সহ বেশ কয়েক জায়গায় গুরুতর জখন করে। পরে গুরুতর অবস্থায় শরনখোলা হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে।

পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে প্রেরণ করে ডাক্তার। তার পরিবার আরো জানায় যে পা প্রায় বিচ্ছিন্ন সেই পায়ে সামান্য পচন ধারায় আরো উপর থেকে তার পা কেটে ফেলা হয়েছে।

এ ঘটনায় এবাদুলের ভাই রিয়াদুল ইসলাম খান বাদী হয়ে শরণখোলা থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ তাৎক্ষণিক একজনকে গ্রেফতার করে পরে তারা কোর্টে জামিন পেয়ে বাড়িতে ফিরে এসে এমাদুল ও তার পরিবারকে মামলা তুলে নেয়ার জন্য ভয়-ভীতি প্রদর্শন সহ জীবননাশের হুমকি দেয়। এ ঘটনায় স্থানীয় ইউপি সদস্য বাচ্চু মুন্সী, এমাদুলের মা, বোন সহ শতাধিক নারী পুরুষ মোস্তফা খান ও তার জামাই রহমানের বিচার চেয়ে শরণখোলার নিজ গ্রামে বাড়ির সন্মুখে মানববন্ধন করেছে।

এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডে ইউপি সদস্য বাচ্চু মুন্সী জানায়, মোস্তফা খান, তার ভাইয়েরা ও তার জামাই অত্যন্ত দুর্ধর্ষ প্রকৃতির তাদের বিরুদ্ধে এ ধরে অপরাধ করার আরো অভিযোগ রয়েছে তারা প্রতিনিয়ত ওই পরিবারটিকে হুমকি দিয়ে আসছে তাই প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন তিনি।

এছাড়া গুরুতর জখম এমাদুলের মা হালিমা বেগম, বোন শিউলি ও কাজল জানায়, তারা মোস্তফা খান ও তার ছেলের ভয়ে রাত্রে ঘর থেকে বের হইতে পারছে না তাদের প্রতিদিন হুমকি দিচ্ছে এ ঘটনায় তারা পুলিশ প্রশাসন সহ উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন। ঘটনার প্রদক্ষদর্শী রাহিলা বেগম বলেন এরকম নৃশংস ঘটনা তিনি জীবনে কখনোই দেখেননি সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী প্রতিবেশী রফেজ উদ্দিন খান বলেন, ইমাদুলের চিৎকারের শব্দ পেয়ে আমরা ছুটে আসলে আমরা ইমাদুলকে মুমূর্ষু অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখি এবং মোস্তফা খান এবং তার দুই ছেলেকে ধারালো দা নিয়ে পালিয়ে যেতে দেখি। এই ঘটনার বিষয়ে আমরা মামলার সাক্ষী হওয়ায় মোস্তফা খান আমাকে ধারালো দা নিয়ে ধাওয়া করে। এরকম কর্মকাণ্ড তারা এর আগেও অনেকবার করেছে কিন্তু কেউ তাদের বিচার করছে না।
আমরা এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

এ ব্যাপারে শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ এএইচ এম কামরুজ্জামান বলেন, জামিনে ছাড়া পেয়ে আসামিরা ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছে বিষয়টি তিনি জানেন না। তবে খোঁজখবর নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিবেন বলে তিনি জানান।