ঢাকা ০১:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আলফাডাঙ্গায় নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা শুরু নাগেশ্বরীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেনের মৃত্যু রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন ফরিদপুর‌ পৌরসভার ‌ সাবেক ১ নং ‌ প্যানেল মেয়র মনিরুল ইসলাম মনির গ্রেপ্তার কুষ্টিয়ার সাংবাদিকতার উজ্জ্বল নক্ষত্র প্রবীণ সাংবাদিক নুরুননবী বাবু সালথায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার দৌলতদিয়ায় পার্কিং করা যাত্রীবাহি বাসে আগুন  নাগেশ্বরীতে ৭ দফা দাবিতে দলিল লেখক সমিতির প্রতিবাদ সভা দেবহাটায় পুলিশের অভিযানে ১জন আসামি গ্রেপ্তার খালের ইজারা বাতিল ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্তের দাবিতে দেবহাটায় মানববন্ধন নওগাঁয় ট্রাক-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে সড়ক বিভাগের প্রকৌশলী নি-হ-ত

মৃত্যুর আগে ফয়সালের সেই দুই সেকেন্ডের তাকানো…

ডেস্ক রিপোর্ট :
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৫:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯৬ বার পঠিত

মৃত্যুর ঠিক আগে ফয়সাল একবার চোখ মেলে তাকিয়েছিল।
মাত্র দুই সেকেন্ড।
হয়তো সেই চোখে ছিল বাঁচার আকুতি।
হয়তো নীরব প্রশ্ন—
“আমি কি সত্যিই এতটাই অপরাধী যে, আমাকে এভাবে মরতে হবে?”
হয়তো সে চেয়েছিল, চারপাশের কেউ একজন এগিয়ে আসুক।
কেউ বলুক—
“থামুন, এভাবে একজন মানুষকে মারবেন না।”
কিন্তু কেউ থামেনি।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কক্সবাজারের মহেশখালীতে চুরির সন্দেহে ফয়সালকে আটক করে মারধর করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, তাকে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে স্বজনরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
একজন মানুষ অপরাধী কি না—সেটি নির্ধারণ করার দায়িত্ব মানুষের হাতে নয়।
অভিযোগ থাকলে তদন্ত হবে, প্রমাণ হবে, আদালত হবে।
বিচার হবে আইনের পথে।
কিন্তু কোনো অভিযোগ, কোনো সন্দেহ—কোনোটিই একজন মানুষকে প্রকাশ্যে নির্যাতন করে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার অধিকার কাউকে দেয় না।
ফয়সালের সেই শেষ দুই সেকেন্ডের তাকানো আজ শুধু একটি পরিবারের কান্না নয়—এটি আমাদের সমাজের বিবেকের সামনে দাঁড়ানো এক কঠিন প্রশ্ন।
আমরা কি এমন এক সমাজ চাই, যেখানে সন্দেহের ভিত্তিতেই একজন মানুষকে শাস্তি দেওয়া হবে?
যেখানে মানুষ দেখবে, কিন্তু থামাতে এগিয়ে আসবে না?
ফয়সাল আর ফিরে আসবে না।
ফিরবে না তার পরিবারের কাছে।
কিন্তু তার চলে যাওয়ার ঘটনাটি যেন আরেকটি খবর হয়ে হারিয়ে না যায়।
অভিযোগের সত্যতা তদন্তে বেরিয়ে আসুক।
যদি কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে থাকে, তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের শনাক্ত করা হোক এবং প্রচলিত আইনে বিচার নিশ্চিত করা হোক।
কারণ বিচার মানে প্রতিশোধ নয়—বিচার মানে সত্যের প্রতিষ্ঠা।
আর ফয়সালের সেই দুই সেকেন্ডের তাকানো—
হয়তো আমাদের মনে করিয়ে দিয়ে যাবে,
মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখার দায়িত্বটা আমরা যেন কোনোদিন ভুলে না যাই।

মৃত্যুর আগে ফয়সালের সেই দুই সেকেন্ডের তাকানো…

আপডেট সময় : ০৩:৪৫:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মৃত্যুর ঠিক আগে ফয়সাল একবার চোখ মেলে তাকিয়েছিল।
মাত্র দুই সেকেন্ড।
হয়তো সেই চোখে ছিল বাঁচার আকুতি।
হয়তো নীরব প্রশ্ন—
“আমি কি সত্যিই এতটাই অপরাধী যে, আমাকে এভাবে মরতে হবে?”
হয়তো সে চেয়েছিল, চারপাশের কেউ একজন এগিয়ে আসুক।
কেউ বলুক—
“থামুন, এভাবে একজন মানুষকে মারবেন না।”
কিন্তু কেউ থামেনি।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কক্সবাজারের মহেশখালীতে চুরির সন্দেহে ফয়সালকে আটক করে মারধর করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, তাকে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে স্বজনরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
একজন মানুষ অপরাধী কি না—সেটি নির্ধারণ করার দায়িত্ব মানুষের হাতে নয়।
অভিযোগ থাকলে তদন্ত হবে, প্রমাণ হবে, আদালত হবে।
বিচার হবে আইনের পথে।
কিন্তু কোনো অভিযোগ, কোনো সন্দেহ—কোনোটিই একজন মানুষকে প্রকাশ্যে নির্যাতন করে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার অধিকার কাউকে দেয় না।
ফয়সালের সেই শেষ দুই সেকেন্ডের তাকানো আজ শুধু একটি পরিবারের কান্না নয়—এটি আমাদের সমাজের বিবেকের সামনে দাঁড়ানো এক কঠিন প্রশ্ন।
আমরা কি এমন এক সমাজ চাই, যেখানে সন্দেহের ভিত্তিতেই একজন মানুষকে শাস্তি দেওয়া হবে?
যেখানে মানুষ দেখবে, কিন্তু থামাতে এগিয়ে আসবে না?
ফয়সাল আর ফিরে আসবে না।
ফিরবে না তার পরিবারের কাছে।
কিন্তু তার চলে যাওয়ার ঘটনাটি যেন আরেকটি খবর হয়ে হারিয়ে না যায়।
অভিযোগের সত্যতা তদন্তে বেরিয়ে আসুক।
যদি কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে থাকে, তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের শনাক্ত করা হোক এবং প্রচলিত আইনে বিচার নিশ্চিত করা হোক।
কারণ বিচার মানে প্রতিশোধ নয়—বিচার মানে সত্যের প্রতিষ্ঠা।
আর ফয়সালের সেই দুই সেকেন্ডের তাকানো—
হয়তো আমাদের মনে করিয়ে দিয়ে যাবে,
মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখার দায়িত্বটা আমরা যেন কোনোদিন ভুলে না যাই।