ঢাকা ০৯:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আলফাডাঙ্গায় নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা শুরু নাগেশ্বরীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেনের মৃত্যু রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন ফরিদপুর‌ পৌরসভার ‌ সাবেক ১ নং ‌ প্যানেল মেয়র মনিরুল ইসলাম মনির গ্রেপ্তার কুষ্টিয়ার সাংবাদিকতার উজ্জ্বল নক্ষত্র প্রবীণ সাংবাদিক নুরুননবী বাবু সালথায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার দৌলতদিয়ায় পার্কিং করা যাত্রীবাহি বাসে আগুন  নাগেশ্বরীতে ৭ দফা দাবিতে দলিল লেখক সমিতির প্রতিবাদ সভা দেবহাটায় পুলিশের অভিযানে ১জন আসামি গ্রেপ্তার খালের ইজারা বাতিল ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্তের দাবিতে দেবহাটায় মানববন্ধন নওগাঁয় ট্রাক-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে সড়ক বিভাগের প্রকৌশলী নি-হ-ত

ভবঘুরের ছদ্মবেশে থাকতো কিলার ‘সাইকো সম্রাট’

মাসুদুর রহমান রুবেল,সাভার(ঢাকা):
  • আপডেট সময় : ০৮:০৫:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬ ৭৯ বার পঠিত

পরিত্যক্ত ‘সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টার’ থেকে শিশুসহ দুই পোড়া লাশের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। পুলিশের ধারণা, ওই দুই লাশ এক নারী ও এক শিশুর। এঘটনায় ভবঘুরের ছদ্মবেশে ঘুরে বেড়ানো মশিউর রহমান খান সম্রাট ওরফে ‘সাইকো সম্রাট’-নামে একজনকে আটক করেছে সাভার মডেল থানা পুলিশ।

রবিবার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে সাভার পৌর এলাকার থানা রোডের পরিত্যক্ত পৌর কমিউনিটি সেন্টারের ভেতরে ওই দুই লাশের সন্ধান পায় পুলিশ। পরে বিকেলে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মশিউর রহমান খান সম্রাট ওরফে ‘সাইকো সম্রাটকে আটক করা হয়।

জানা যায় আটক সম্রাট পৌর কমিউনিটি সেন্টার ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আশপাশেই দীর্ঘদিন ধরে ঘোরাফেরা করতো। তবে তার বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া যায়নি বলে জানান ঢাকা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) সাইদুল ইসলাম

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাভার কলেজের এক শিক্ষার্থী প্রথমে কমিউনিটি সেন্টারের ভেতরে প্রবেশ করে। পরে ওই শিক্ষার্থী কমিউনিটি সেন্টারের ভেতরে পোড়া লাশ দেখতে পেয়ে ৯৯৯ নাম্বারে ফোন দেন। পরে সাভার মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি অপারেশন) হেলাল উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়েছে।ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান পুলিশের ওই কর্মকর্তা।

এ ব্যাপারে সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরমান আলী বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও নৃশংস। লাশ উদ্ধারের সঙ্গে সঙ্গেই আমরা সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ শুরু করি। ফুটেজ ও পারিপার্শ্বিক তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করে দ্রুত আটক করা সম্ভব হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে একাধিক হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। আমরা বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করছি এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনা হবে।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “প্রতিদিন যাকে দেখি রাস্তায় হাটাহাটি করতে, চুপচাপ বসে থাকতে, কখনো বিড়বিড় করে কথা বলতে, সেই লোক যে একের পর এক মানুষ হত্যা করেছে-এটা ভাবতেই গা শিউরে উঠছে।”

জানা যায় গত ২৯ আগস্ট রাতে একই স্থান থেকে হাত-পা বাঁধা অজ্ঞাত এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়, ১১ অক্টোবর রাতে ফের কমিউনিটি সেন্টারের ভেতর থেকে অজ্ঞাত (৩০) এক নারীর অর্ধনগ্ন লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

১৯ ডিসেম্বর পরিত্যক্ত ওই কমিউনিটি সেন্টারের দ্বিতীয় তলার টয়লেটের ভেতর থেকে এক পুরুষের লাশ উদ্ধার করে সাভার মডেল থানা পুলিশ। উদ্ধার হওয়া ওই তিন লাশের পরিচয় আজ পর্যন্ত শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। সর্বশেষ আজ একই স্থান থেকে দুই লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। 

পরপর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় যখন সাভারজুড়ে আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠা চরমে, তখন পুলিশের দ্রুত ও সাহসী অভিযানে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন এলাকাবাসী। তারা দাবি জানিয়েছেন-এই নৃশংস খুনির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

ট্যাগস :

ভবঘুরের ছদ্মবেশে থাকতো কিলার ‘সাইকো সম্রাট’

আপডেট সময় : ০৮:০৫:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

পরিত্যক্ত ‘সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টার’ থেকে শিশুসহ দুই পোড়া লাশের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। পুলিশের ধারণা, ওই দুই লাশ এক নারী ও এক শিশুর। এঘটনায় ভবঘুরের ছদ্মবেশে ঘুরে বেড়ানো মশিউর রহমান খান সম্রাট ওরফে ‘সাইকো সম্রাট’-নামে একজনকে আটক করেছে সাভার মডেল থানা পুলিশ।

রবিবার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে সাভার পৌর এলাকার থানা রোডের পরিত্যক্ত পৌর কমিউনিটি সেন্টারের ভেতরে ওই দুই লাশের সন্ধান পায় পুলিশ। পরে বিকেলে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মশিউর রহমান খান সম্রাট ওরফে ‘সাইকো সম্রাটকে আটক করা হয়।

জানা যায় আটক সম্রাট পৌর কমিউনিটি সেন্টার ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আশপাশেই দীর্ঘদিন ধরে ঘোরাফেরা করতো। তবে তার বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া যায়নি বলে জানান ঢাকা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) সাইদুল ইসলাম

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাভার কলেজের এক শিক্ষার্থী প্রথমে কমিউনিটি সেন্টারের ভেতরে প্রবেশ করে। পরে ওই শিক্ষার্থী কমিউনিটি সেন্টারের ভেতরে পোড়া লাশ দেখতে পেয়ে ৯৯৯ নাম্বারে ফোন দেন। পরে সাভার মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি অপারেশন) হেলাল উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়েছে।ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান পুলিশের ওই কর্মকর্তা।

এ ব্যাপারে সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরমান আলী বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও নৃশংস। লাশ উদ্ধারের সঙ্গে সঙ্গেই আমরা সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ শুরু করি। ফুটেজ ও পারিপার্শ্বিক তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করে দ্রুত আটক করা সম্ভব হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে একাধিক হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। আমরা বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করছি এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনা হবে।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “প্রতিদিন যাকে দেখি রাস্তায় হাটাহাটি করতে, চুপচাপ বসে থাকতে, কখনো বিড়বিড় করে কথা বলতে, সেই লোক যে একের পর এক মানুষ হত্যা করেছে-এটা ভাবতেই গা শিউরে উঠছে।”

জানা যায় গত ২৯ আগস্ট রাতে একই স্থান থেকে হাত-পা বাঁধা অজ্ঞাত এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়, ১১ অক্টোবর রাতে ফের কমিউনিটি সেন্টারের ভেতর থেকে অজ্ঞাত (৩০) এক নারীর অর্ধনগ্ন লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

১৯ ডিসেম্বর পরিত্যক্ত ওই কমিউনিটি সেন্টারের দ্বিতীয় তলার টয়লেটের ভেতর থেকে এক পুরুষের লাশ উদ্ধার করে সাভার মডেল থানা পুলিশ। উদ্ধার হওয়া ওই তিন লাশের পরিচয় আজ পর্যন্ত শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। সর্বশেষ আজ একই স্থান থেকে দুই লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। 

পরপর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় যখন সাভারজুড়ে আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠা চরমে, তখন পুলিশের দ্রুত ও সাহসী অভিযানে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন এলাকাবাসী। তারা দাবি জানিয়েছেন-এই নৃশংস খুনির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।