ঢাকা ০৫:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আলফাডাঙ্গায় নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা শুরু নাগেশ্বরীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেনের মৃত্যু রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন ফরিদপুর‌ পৌরসভার ‌ সাবেক ১ নং ‌ প্যানেল মেয়র মনিরুল ইসলাম মনির গ্রেপ্তার কুষ্টিয়ার সাংবাদিকতার উজ্জ্বল নক্ষত্র প্রবীণ সাংবাদিক নুরুননবী বাবু সালথায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার দৌলতদিয়ায় পার্কিং করা যাত্রীবাহি বাসে আগুন  নাগেশ্বরীতে ৭ দফা দাবিতে দলিল লেখক সমিতির প্রতিবাদ সভা দেবহাটায় পুলিশের অভিযানে ১জন আসামি গ্রেপ্তার খালের ইজারা বাতিল ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্তের দাবিতে দেবহাটায় মানববন্ধন নওগাঁয় ট্রাক-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে সড়ক বিভাগের প্রকৌশলী নি-হ-ত

বিদেশ পাঠানোর নামে ৭ লাখ টাকা প্রতারণা, থানায় অভিযোগেও মিলছে না প্রতিকার

মো: হারুন অর রশিদ,দৌলতপুর (কুষ্টিয়া):
  • আপডেট সময় : ১২:০২:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬ ৩৪০ বার পঠিত

Oplus_131072

বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের পরও তিন মাস ধরে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার। অভিযোগ উঠেছে, মামলার সুরাহা করতে গিয়ে দৌলতপুর থানার এসআই জয়নুলের গাফিলতি ও রহস্যজনক নিষ্ক্রিয়তায় বিচারপ্রার্থী পরিবার হতাশ হয়ে পড়েছে।
ভুক্তভোগী হোগলবাড়ি ইউনিয়নের কায়মারি গ্রামের বকুল মন্ডলের ছেলে মোঃ আলম হোসেন (২৭)। তিনি অভিযোগ করে বলেন, রিফাতপুর ইউনিয়নের তেলিগাংদিয়া ফুলতলা গ্রামের মৃত জোয়াদ আলী হাজীর ছেলে আফসার আলী তাকে কম্বোডিয়ায় উচ্চ বেতনের চাকরির লোভ দেখান। মাসে ৭০ থেকে ৯০ হাজার টাকা বেতনের আশ্বাস দিয়ে বিদেশ পাঠানোর কথা বলেন তিনি।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে আফসার আলী কায়মারি গ্রামে এসে আলম হোসেনের পরিবারের কাছ থেকে নগদ ৭ লাখ টাকা গ্রহণ করেন। এ সময় সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাদিপুর গ্রামের মৃত ভাদু শেখের ছেলে জাহিদ হোসেন (৫৪) এবং কায়মারি গ্রামের শামসের আলীর ছেলে শামীম হোসেন।
পরবর্তীতে গত ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে আলম হোসেনকে কম্বোডিয়ায় পাঠানো হয়। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর তার জন্য কোনো কাজের ব্যবস্থা করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। বরং তাকে ট্যুরিস্ট ভিসায় পাঠানো হয়েছিল, যার কারণে সেখানে বৈধভাবে কাজ করার সুযোগ ছিল না। ফলে বিদেশের মাটিতে তাকে মানবেতর জীবনযাপন করতে হয়েছে। কখনো দিনে একবার খাবার খেয়ে, আবার কখনো অনাহারে দিন কাটাতে হয়েছে বলে জানান তিনি। শেষ পর্যন্ত ট্যুরিস্ট ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তিন মাসের মাথায় তাকে দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হতে হয়।
দেশে ফিরে গত ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে সকাল ৯টার দিকে আলম হোসেন অভিযুক্ত আফসার আলীর বাড়িতে গিয়ে টাকা ফেরত চাইলে আফসার আলী ও তার সহযোগীরা টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তাকে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ঘটনায় আলম হোসেন পরে দৌলতপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগটি জানুয়ারি মাসে জমা দেওয়ার পর থেকে একাধিকবার সালিশের তারিখ নির্ধারণ করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সমাধান হয়নি। বরং প্রতিবারই অভিযুক্তকে থানায় হাজির করাতে ব্যর্থ হয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা এসআই জয়নুল—এমন অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী।
সর্বশেষ গত ১০ মার্চ ২০২৬ তারিখে দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)-এর কক্ষে এসআই জয়নুল নিজে উপস্থিত থেকে অভিযুক্ত আফসার আলীকে ফোনে ১২ মার্চ সকাল ১১টায় থানায় উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেন। কিন্তু নির্ধারিত দিন ও সময় উপস্থিত না হয়ে আবারও রহস্যজনকভাবে বিষয়টি ঝুলে যায়।
ভুক্তভোগী আলম হোসেন জানান, ১২ মার্চ সকাল ১১টার দিকে তিনি নিজের মোবাইল ফোন থেকে এসআই জয়নুলকে ফোন করলে তিনি বিভিন্ন অজুহাত দেখাতে থাকেন। এতে করে প্রতারণার শিকার পরিবারটি আরও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যায়।
এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরিফুল রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এসআই জয়নুল আজ ছুটিতে আছেন।”
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, থানায় অভিযোগ করার পরও যথাযথ পদক্ষেপ না নেওয়ায় এবং অভিযুক্তকে বারবার সময় দেওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, দ্রুত আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া হলে প্রতারক চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে।
ভুক্তভোগী পরিবার দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রতারণার মাধ্যমে নেওয়া ৭ লাখ টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

বিদেশ পাঠানোর নামে ৭ লাখ টাকা প্রতারণা, থানায় অভিযোগেও মিলছে না প্রতিকার

আপডেট সময় : ১২:০২:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের পরও তিন মাস ধরে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার। অভিযোগ উঠেছে, মামলার সুরাহা করতে গিয়ে দৌলতপুর থানার এসআই জয়নুলের গাফিলতি ও রহস্যজনক নিষ্ক্রিয়তায় বিচারপ্রার্থী পরিবার হতাশ হয়ে পড়েছে।
ভুক্তভোগী হোগলবাড়ি ইউনিয়নের কায়মারি গ্রামের বকুল মন্ডলের ছেলে মোঃ আলম হোসেন (২৭)। তিনি অভিযোগ করে বলেন, রিফাতপুর ইউনিয়নের তেলিগাংদিয়া ফুলতলা গ্রামের মৃত জোয়াদ আলী হাজীর ছেলে আফসার আলী তাকে কম্বোডিয়ায় উচ্চ বেতনের চাকরির লোভ দেখান। মাসে ৭০ থেকে ৯০ হাজার টাকা বেতনের আশ্বাস দিয়ে বিদেশ পাঠানোর কথা বলেন তিনি।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে আফসার আলী কায়মারি গ্রামে এসে আলম হোসেনের পরিবারের কাছ থেকে নগদ ৭ লাখ টাকা গ্রহণ করেন। এ সময় সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাদিপুর গ্রামের মৃত ভাদু শেখের ছেলে জাহিদ হোসেন (৫৪) এবং কায়মারি গ্রামের শামসের আলীর ছেলে শামীম হোসেন।
পরবর্তীতে গত ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে আলম হোসেনকে কম্বোডিয়ায় পাঠানো হয়। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর তার জন্য কোনো কাজের ব্যবস্থা করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। বরং তাকে ট্যুরিস্ট ভিসায় পাঠানো হয়েছিল, যার কারণে সেখানে বৈধভাবে কাজ করার সুযোগ ছিল না। ফলে বিদেশের মাটিতে তাকে মানবেতর জীবনযাপন করতে হয়েছে। কখনো দিনে একবার খাবার খেয়ে, আবার কখনো অনাহারে দিন কাটাতে হয়েছে বলে জানান তিনি। শেষ পর্যন্ত ট্যুরিস্ট ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তিন মাসের মাথায় তাকে দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হতে হয়।
দেশে ফিরে গত ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে সকাল ৯টার দিকে আলম হোসেন অভিযুক্ত আফসার আলীর বাড়িতে গিয়ে টাকা ফেরত চাইলে আফসার আলী ও তার সহযোগীরা টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তাকে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ঘটনায় আলম হোসেন পরে দৌলতপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগটি জানুয়ারি মাসে জমা দেওয়ার পর থেকে একাধিকবার সালিশের তারিখ নির্ধারণ করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সমাধান হয়নি। বরং প্রতিবারই অভিযুক্তকে থানায় হাজির করাতে ব্যর্থ হয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা এসআই জয়নুল—এমন অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী।
সর্বশেষ গত ১০ মার্চ ২০২৬ তারিখে দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)-এর কক্ষে এসআই জয়নুল নিজে উপস্থিত থেকে অভিযুক্ত আফসার আলীকে ফোনে ১২ মার্চ সকাল ১১টায় থানায় উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেন। কিন্তু নির্ধারিত দিন ও সময় উপস্থিত না হয়ে আবারও রহস্যজনকভাবে বিষয়টি ঝুলে যায়।
ভুক্তভোগী আলম হোসেন জানান, ১২ মার্চ সকাল ১১টার দিকে তিনি নিজের মোবাইল ফোন থেকে এসআই জয়নুলকে ফোন করলে তিনি বিভিন্ন অজুহাত দেখাতে থাকেন। এতে করে প্রতারণার শিকার পরিবারটি আরও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যায়।
এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরিফুল রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এসআই জয়নুল আজ ছুটিতে আছেন।”
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, থানায় অভিযোগ করার পরও যথাযথ পদক্ষেপ না নেওয়ায় এবং অভিযুক্তকে বারবার সময় দেওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, দ্রুত আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া হলে প্রতারক চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে।
ভুক্তভোগী পরিবার দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রতারণার মাধ্যমে নেওয়া ৭ লাখ টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।