ঢাকা ০৯:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আলফাডাঙ্গায় নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা শুরু নাগেশ্বরীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেনের মৃত্যু রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন ফরিদপুর‌ পৌরসভার ‌ সাবেক ১ নং ‌ প্যানেল মেয়র মনিরুল ইসলাম মনির গ্রেপ্তার কুষ্টিয়ার সাংবাদিকতার উজ্জ্বল নক্ষত্র প্রবীণ সাংবাদিক নুরুননবী বাবু সালথায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার দৌলতদিয়ায় পার্কিং করা যাত্রীবাহি বাসে আগুন  নাগেশ্বরীতে ৭ দফা দাবিতে দলিল লেখক সমিতির প্রতিবাদ সভা দেবহাটায় পুলিশের অভিযানে ১জন আসামি গ্রেপ্তার খালের ইজারা বাতিল ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্তের দাবিতে দেবহাটায় মানববন্ধন নওগাঁয় ট্রাক-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে সড়ক বিভাগের প্রকৌশলী নি-হ-ত

বাবুই পাখির বাসা দ্রুত বিলুপ্ত হচ্ছে: প্রকৃতি প্রেমিকদের গভীর উদ্বেগ

আল-হুদা মালী,শ্যামনগর (সাতক্ষীরা):
  • আপডেট সময় : ০৫:০৩:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ ৭৪ বার পঠিত

এক সময় গ্রামবাংলার তালগাছ ও খেজুরগাছে ঝুলতে দেখা যেত শত শত বাবুই পাখির শিল্পকলার মতো বোনা বাসা। কিন্তু এখন সেই দৃশ্য ক্রমশ বিরল হয়ে যাচ্ছে। পরিবেশবিদ ও পাখি গবেষকরা জানাচ্ছেন, বাবুই পাখির ঝুলন্ত বাসা বাংলাদেশ থেকে দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে।
শুধু বাসা নয়, বাবুই পাখির সংখ্যাও উদ্বেগজনক হারে কমছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, গত ২০ বছরে গ্রামাঞ্চলে বাবুই পাখির বাসার সংখ্যা প্রায় ৭৮ শতাংশ কমে গেছে। গ্রাম অঞ্চলে, শহরতলি ও আধা-শহুরে এলাকায় তো প্রায় শূন্যের কোঠায়।

বিশেষজ্ঞরা মূল কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করেছেন:
তাল ও খেজুর গাছের অবাধ কাটা বাবুই পাখি বাসা বাঁধে প্রধানত তাল, খেজুর, নারকেল গাছের ডালে। বাণিজ্যিক চাষ, রাস্তা প্রশস্তকরণ ও বাড়ি নির্মাচনের জন্য এসব গাছ কাটা পড়ছে লাগামহীনভাবে।

অতিরিক্ত কীটনাশকেরব্যবহার: ধানক্ষেত ও সবজি খেতে অতিরিক্ত কীটনাশক ছিটানোর ফলে বাবুই পাখির প্রধান খাদ্য পতঙ্গের সংখ্যা কমে গেছে।

জলবায়ু পরিবর্তন: অনিয়মিত বৃষ্টি ও তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে বাবুই পাখির প্রজনন মৌসুম বিঘ্নিত হচ্ছে।

মোবাইল টাওয়ার ও বিদ্যুতের তার: অনেক বাবুই বাসা মোবাইল টাওয়ারে বাঁধতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যাচ্ছে।

বিখ্যাত পাখি গবেষক এনাম উল হক বলেন, “বাবুই পাখির বাসা শুধু পাখির আশ্রয় নয়, এটা আমাদের গ্রামীণ সংস্কৃতি ও জীববৈচিত্র্যের প্রতীক। এই বাসা হারিয়ে গেলে একটা পুরো প্রজাতি হারিয়ে যাবে।”

এখনও আশার আলো আছে? কিছু এলাকায় সচেতন মানুষ নিজ উদ্যোগে তাল-খেজুর গাছ লাগাচ্ছেন এবং কীটনাশক কম ব্যবহার করছেন। বিভিন্ন জেলায় কিছু গ্রাম ও অঞ্চলে এখনও বাবুই বাসার দেখা মেলে। পরিবেশকর্মীরা বলছেন, সরকার যদি তাল-খেজুর গাছ কাটায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এবং গ্রামে জৈব চাষকে উৎসাহিত করে, তাহলে এই ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব। বাবুই পাখির বাসা বাঁচাতে না পারলে আমরা হারাবো শৈশবের সেই পরিচিত দৃশ্য—যে দৃশ্য দেখে আমাদের দাদা- দাদি ও নানা-নানিরা বলতেন, “দেখ্ বাবুইয়ের বাসা বানানোর কারুকাজ! মানুষের থেকেও বেশি নিখুঁত।”

আপনার এলাকায় এখনও বাবুই বাসা আছে কি? গ্রামবাংলার তাল-খেজুর গাছে ঝুলন্ত বাবুই পাখির বাসা এখন প্রায় দেখাই যায় না।

বাবুই পাখির বাসা দ্রুত বিলুপ্ত হচ্ছে: প্রকৃতি প্রেমিকদের গভীর উদ্বেগ

আপডেট সময় : ০৫:০৩:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫

এক সময় গ্রামবাংলার তালগাছ ও খেজুরগাছে ঝুলতে দেখা যেত শত শত বাবুই পাখির শিল্পকলার মতো বোনা বাসা। কিন্তু এখন সেই দৃশ্য ক্রমশ বিরল হয়ে যাচ্ছে। পরিবেশবিদ ও পাখি গবেষকরা জানাচ্ছেন, বাবুই পাখির ঝুলন্ত বাসা বাংলাদেশ থেকে দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে।
শুধু বাসা নয়, বাবুই পাখির সংখ্যাও উদ্বেগজনক হারে কমছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, গত ২০ বছরে গ্রামাঞ্চলে বাবুই পাখির বাসার সংখ্যা প্রায় ৭৮ শতাংশ কমে গেছে। গ্রাম অঞ্চলে, শহরতলি ও আধা-শহুরে এলাকায় তো প্রায় শূন্যের কোঠায়।

বিশেষজ্ঞরা মূল কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করেছেন:
তাল ও খেজুর গাছের অবাধ কাটা বাবুই পাখি বাসা বাঁধে প্রধানত তাল, খেজুর, নারকেল গাছের ডালে। বাণিজ্যিক চাষ, রাস্তা প্রশস্তকরণ ও বাড়ি নির্মাচনের জন্য এসব গাছ কাটা পড়ছে লাগামহীনভাবে।

অতিরিক্ত কীটনাশকেরব্যবহার: ধানক্ষেত ও সবজি খেতে অতিরিক্ত কীটনাশক ছিটানোর ফলে বাবুই পাখির প্রধান খাদ্য পতঙ্গের সংখ্যা কমে গেছে।

জলবায়ু পরিবর্তন: অনিয়মিত বৃষ্টি ও তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে বাবুই পাখির প্রজনন মৌসুম বিঘ্নিত হচ্ছে।

মোবাইল টাওয়ার ও বিদ্যুতের তার: অনেক বাবুই বাসা মোবাইল টাওয়ারে বাঁধতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যাচ্ছে।

বিখ্যাত পাখি গবেষক এনাম উল হক বলেন, “বাবুই পাখির বাসা শুধু পাখির আশ্রয় নয়, এটা আমাদের গ্রামীণ সংস্কৃতি ও জীববৈচিত্র্যের প্রতীক। এই বাসা হারিয়ে গেলে একটা পুরো প্রজাতি হারিয়ে যাবে।”

এখনও আশার আলো আছে? কিছু এলাকায় সচেতন মানুষ নিজ উদ্যোগে তাল-খেজুর গাছ লাগাচ্ছেন এবং কীটনাশক কম ব্যবহার করছেন। বিভিন্ন জেলায় কিছু গ্রাম ও অঞ্চলে এখনও বাবুই বাসার দেখা মেলে। পরিবেশকর্মীরা বলছেন, সরকার যদি তাল-খেজুর গাছ কাটায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এবং গ্রামে জৈব চাষকে উৎসাহিত করে, তাহলে এই ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব। বাবুই পাখির বাসা বাঁচাতে না পারলে আমরা হারাবো শৈশবের সেই পরিচিত দৃশ্য—যে দৃশ্য দেখে আমাদের দাদা- দাদি ও নানা-নানিরা বলতেন, “দেখ্ বাবুইয়ের বাসা বানানোর কারুকাজ! মানুষের থেকেও বেশি নিখুঁত।”

আপনার এলাকায় এখনও বাবুই বাসা আছে কি? গ্রামবাংলার তাল-খেজুর গাছে ঝুলন্ত বাবুই পাখির বাসা এখন প্রায় দেখাই যায় না।