দৌলতপুরে পদ্মার চরে চিনাবাদাম চাষে বাম্পার ফলন, হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে
- আপডেট সময় : ০৯:৫৭:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬ ৫১ বার পঠিত

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার পদ্মা নদীর জেগে ওঠা বিস্তীর্ণ চরে এবারও চিনাবাদাম চাষে বাম্পার ফলন পেয়েছেন কৃষকরা। অধিকাংশ কৃষক ইতোমধ্যে ক্ষেত থেকে বাদাম সংগ্রহ করে ঘরে তুলেছেন। কেউ কেউ এখনও বাদাম তোলা, শুকানো ও সংরক্ষণের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
একসময় অনাবাদি পড়ে থাকা পদ্মার বালুচর এখন পরিণত হয়েছে লাভজনক কৃষিজমিতে। স্বল্প খরচ, কম সময় ও অধিক লাভের কারণে চরাঞ্চলে প্রতিবছরই চিনাবাদাম চাষের প্রতি কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। এ ফসল চাষ করে অনেক কৃষকের আর্থিক অবস্থারও উন্নতি হয়েছে।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি রবি মৌসুমে দৌলতপুর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর, চিলমারী, মরিচা ও ফিলিপনগর ইউনিয়নের চরাঞ্চলে প্রায় ৪৫০ হেক্টর জমিতে চিনাবাদামের আবাদ হয়েছে। তবে গত বছরের তুলনায় এবার প্রায় ৩০০ হেক্টর জমিতে আবাদ কম হয়েছে। এর কারণ হিসেবে চরাঞ্চলে অন্যান্য লাভজনক ফসলের আবাদ বৃদ্ধিকে উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
কৃষকদের দাবি, প্রতি বিঘা জমিতে চিনাবাদাম চাষে খরচ হয়েছে মাত্র ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা। আর উৎপাদন হয়েছে ৬ থেকে ৮ মণ পর্যন্ত। বর্তমানে প্রতি মণ বাদাম পাইকারি বাজারে ৪ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়েও কৃষকরা তিন থেকে চার গুণ পর্যন্ত লাভ করছেন।
বাদাম চাষ শুধু কৃষকদেরই নয়, স্থানীয় শ্রমজীবী মানুষের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। ক্ষেত থেকে বাদাম তোলা, ঝাড়াই-বাছাই ও শুকানোর কাজে পুরুষের পাশাপাশি নারী ও শিশুরাও অংশ নিচ্ছেন। মৌসুমি শ্রমিকরা প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত আয় করছেন।
রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের কৃষক সোহেল আহমেদ আলম বলেন, “আমি প্রতি বছরই বাদামের আবাদ করি। মাত্র তিন মাসে ফসল ঘরে তোলা যায়। এবারও প্রতি বিঘায় ৬ থেকে ৮ মণ ফলন হয়েছে। সব খরচ বাদ দিয়ে ভালো লাভ হয়েছে।”
স্থানীয় শ্রমিক বিল্লাল হোসেন বলেন, “বাদাম তোলার মৌসুমে প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত আয় করছি। নারী ও শিশুরাও কাজ করছে। এতে অনেক পরিবারের বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে।”
দৌলতপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রেহানা পারভীন বলেন, “সরকারি প্রণোদনা, উন্নত জাতের বীজ সরবরাহ এবং কৃষকদের নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ দেওয়ার ফলে এ বছর বাদামের ভালো ফলন হয়েছে। প্রতি বিঘায় ৬ থেকে ৮ মণ পর্যন্ত উৎপাদন হয়েছে। বাজারদরও সন্তোষজনক থাকায় কৃষকরা ভালো লাভ করছেন।”
তিনি আরও জানান, কৃষি বিভাগের সহায়তায় চরাঞ্চলে বাদাম চাষ আরও সম্প্রসারণের উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। তবে অন্যান্য অর্থকরী ফসলের আবাদ বেড়ে যাওয়ায় গত বছরের তুলনায় এ বছর বাদাম চাষের পরিমাণ কিছুটা কমেছে।




















