ঢাকা ০৭:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আলফাডাঙ্গায় নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা শুরু নাগেশ্বরীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেনের মৃত্যু রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন ফরিদপুর‌ পৌরসভার ‌ সাবেক ১ নং ‌ প্যানেল মেয়র মনিরুল ইসলাম মনির গ্রেপ্তার কুষ্টিয়ার সাংবাদিকতার উজ্জ্বল নক্ষত্র প্রবীণ সাংবাদিক নুরুননবী বাবু সালথায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার দৌলতদিয়ায় পার্কিং করা যাত্রীবাহি বাসে আগুন  নাগেশ্বরীতে ৭ দফা দাবিতে দলিল লেখক সমিতির প্রতিবাদ সভা দেবহাটায় পুলিশের অভিযানে ১জন আসামি গ্রেপ্তার খালের ইজারা বাতিল ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্তের দাবিতে দেবহাটায় মানববন্ধন নওগাঁয় ট্রাক-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে সড়ক বিভাগের প্রকৌশলী নি-হ-ত

নাসিরনগরে ৪ চিকিৎসকে চলছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

বরুন কান্তি সরকার,নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া):
  • আপডেট সময় : ১০:১৬:৪৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ জুলাই ২০২৫ ১৪৮ বার পঠিত

Oplus_131072

চিকিৎসক সঙ্কটে চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলা ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবা। 

গাইনি, সার্জারি, শিশু,চর্ম ও যৌন, অর্থপেডিক্স, মেডিসিন, এনেসথেসিয়াসহ ২১টি পদের বিপরীতে ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ পদই খালি।জনবল সংকটে মাত্র ৪জন চিকিৎসক দিয়েই চলছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবা।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মোট চিকিৎসকের পদ রয়েছে ২১টি তার মধ্যে ১৭টি পদই শূণ্য।এছাড়াও কনসালটেন্ট ১০টি পদের বিপরীতে আছে মাত্র একজন। নার্স ৩৫টি পদের মধ্যে আছে ১৯ জন। নার্সদের মধ্যে আবার প্রেষণে চলে গেছে পাঁচজন, মাতৃত্বকালীন ছুটিতে আছেন দুইজন।এনেসথেসিয়ার জন্য চিকিৎসক না থাকায় চালু করা যাচ্ছে না সিজারসহ ছোটখাটো অপারেশন।চিকিৎসকদের সহকারী সেকমো ১৫টি পদের বিপরীতে আছে তিনজন। একজন রেডিওলজিস্টটের অভাবে চালু হচ্ছে না এক্স-রে মেশিন।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে আরও জানা যায়,উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য  যন্ত্রপাতি থাকার পরও মেডিকেল টেকনোলজিস্টের অভাবে এক্সরে মেশিনের সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।ফলে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে হাওর বেষ্টিত নাসিরনগর উপজেলাসহ আশেপাশের কয়েকটি উপজেলা থেকে আসা সাধারণ মানুষ।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রতিদিনের মত চিকিৎসকদের কক্ষের সামনে লম্বা লাইন। কথা হয় কয়েকজন চিকিৎসকের সঙ্গে। তারা জানান, প্রতিদিন কমপক্ষে গড়ে প্রায় ৫০০ রোগী এ হাসপাতালে বর্হিবিভাগ থেকে সেবা গ্রহন করে থাকে। কিন্তু চিকিৎসক না থাকায় এত মানুষকে সেবা দিতে আমাদের সমস্যা হয়। অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদ শূণ্য থাকায় সাধারন মানুষ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা ৮০ বছর বয়স্ক নারী খায়রুন্নেসা বলেন,অনেক বয়স হয়েছে। কোমরে প্রচন্ড ব্যাথা।ঠিকমত বসতে পারি না,নামাজও পড়তে কষ্ট হয়।হাসপাতালে এসে দেখি ডাক্তার(অর্থপেডিক্স) নাই,তাই চলে যাচ্ছি। আক্ষেপের সুরে বলেন,হাসপাতালে আর কোন সময়ে ডাক্তার আসবে? আমি মরার পর।
চর্ম ও যৌন চিকিৎসা নিতে আসা শরীফুল হক বলেন, চর্ম ও যৌনের মত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে কোন ডাক্তার নাই। আমাদের হাওরবেষ্টিত নাসিরনগরে এত বড় একটা হাসপাতালে ডাক্তার মাত্র কয়েকজন, মানুষ চিকিৎসা পাবে কই। এগুলো দেখার কেই নেই।

হাসপাতালের বারান্দায় বসেছিলেন জয়নাল মিয়া।পাশেই একজন গর্ভবতী নারী। কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি জানান, তার স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা। চিকিৎসক বলেছেন, নরমাল ডেলিভারি না হলে সিজার করাতে হবে।শুনলাম অজ্ঞানের(এনেসথেসিয়া) ডাক্তার নাই। আমার মত গরীব মানুষ অত টেহা পামু কই?
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দিবাকর ভাট বলেন, আমি দায়িত্ব নেয়ায় পর থেকেই হাসপাতালের সেবার মান উন্নত করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। কিন্তু অনেক চিকিৎসকের পদ খালি রয়েছে। ঢাকা থেকে যন্ত্রপাতি এনে অপারেশন থিয়েটার সচল করেছি কিন্তু একজন এনেসথেসিয়ার অভাবে সিজার করাতে পারছি না।
ব্রাহ্মণাড়িয়ার জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. নোমান মিয়া বলেন, জনবল শূন্যতার বিষয়ে আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।  চিকিৎসকদের জন্য সামনে নিয়োগ আসছে।আশা করছি কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বিবেচনা নিবেন এবং চিকিৎসক শূন্যতা অনেকটাই কাটিয়ে উঠা সম্ভব হবে।

নাসিরনগরে ৪ চিকিৎসকে চলছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

আপডেট সময় : ১০:১৬:৪৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ জুলাই ২০২৫

চিকিৎসক সঙ্কটে চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলা ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবা। 

গাইনি, সার্জারি, শিশু,চর্ম ও যৌন, অর্থপেডিক্স, মেডিসিন, এনেসথেসিয়াসহ ২১টি পদের বিপরীতে ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ পদই খালি।জনবল সংকটে মাত্র ৪জন চিকিৎসক দিয়েই চলছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবা।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মোট চিকিৎসকের পদ রয়েছে ২১টি তার মধ্যে ১৭টি পদই শূণ্য।এছাড়াও কনসালটেন্ট ১০টি পদের বিপরীতে আছে মাত্র একজন। নার্স ৩৫টি পদের মধ্যে আছে ১৯ জন। নার্সদের মধ্যে আবার প্রেষণে চলে গেছে পাঁচজন, মাতৃত্বকালীন ছুটিতে আছেন দুইজন।এনেসথেসিয়ার জন্য চিকিৎসক না থাকায় চালু করা যাচ্ছে না সিজারসহ ছোটখাটো অপারেশন।চিকিৎসকদের সহকারী সেকমো ১৫টি পদের বিপরীতে আছে তিনজন। একজন রেডিওলজিস্টটের অভাবে চালু হচ্ছে না এক্স-রে মেশিন।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে আরও জানা যায়,উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য  যন্ত্রপাতি থাকার পরও মেডিকেল টেকনোলজিস্টের অভাবে এক্সরে মেশিনের সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।ফলে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে হাওর বেষ্টিত নাসিরনগর উপজেলাসহ আশেপাশের কয়েকটি উপজেলা থেকে আসা সাধারণ মানুষ।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রতিদিনের মত চিকিৎসকদের কক্ষের সামনে লম্বা লাইন। কথা হয় কয়েকজন চিকিৎসকের সঙ্গে। তারা জানান, প্রতিদিন কমপক্ষে গড়ে প্রায় ৫০০ রোগী এ হাসপাতালে বর্হিবিভাগ থেকে সেবা গ্রহন করে থাকে। কিন্তু চিকিৎসক না থাকায় এত মানুষকে সেবা দিতে আমাদের সমস্যা হয়। অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদ শূণ্য থাকায় সাধারন মানুষ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা ৮০ বছর বয়স্ক নারী খায়রুন্নেসা বলেন,অনেক বয়স হয়েছে। কোমরে প্রচন্ড ব্যাথা।ঠিকমত বসতে পারি না,নামাজও পড়তে কষ্ট হয়।হাসপাতালে এসে দেখি ডাক্তার(অর্থপেডিক্স) নাই,তাই চলে যাচ্ছি। আক্ষেপের সুরে বলেন,হাসপাতালে আর কোন সময়ে ডাক্তার আসবে? আমি মরার পর।
চর্ম ও যৌন চিকিৎসা নিতে আসা শরীফুল হক বলেন, চর্ম ও যৌনের মত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে কোন ডাক্তার নাই। আমাদের হাওরবেষ্টিত নাসিরনগরে এত বড় একটা হাসপাতালে ডাক্তার মাত্র কয়েকজন, মানুষ চিকিৎসা পাবে কই। এগুলো দেখার কেই নেই।

হাসপাতালের বারান্দায় বসেছিলেন জয়নাল মিয়া।পাশেই একজন গর্ভবতী নারী। কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি জানান, তার স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা। চিকিৎসক বলেছেন, নরমাল ডেলিভারি না হলে সিজার করাতে হবে।শুনলাম অজ্ঞানের(এনেসথেসিয়া) ডাক্তার নাই। আমার মত গরীব মানুষ অত টেহা পামু কই?
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দিবাকর ভাট বলেন, আমি দায়িত্ব নেয়ায় পর থেকেই হাসপাতালের সেবার মান উন্নত করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। কিন্তু অনেক চিকিৎসকের পদ খালি রয়েছে। ঢাকা থেকে যন্ত্রপাতি এনে অপারেশন থিয়েটার সচল করেছি কিন্তু একজন এনেসথেসিয়ার অভাবে সিজার করাতে পারছি না।
ব্রাহ্মণাড়িয়ার জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. নোমান মিয়া বলেন, জনবল শূন্যতার বিষয়ে আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।  চিকিৎসকদের জন্য সামনে নিয়োগ আসছে।আশা করছি কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বিবেচনা নিবেন এবং চিকিৎসক শূন্যতা অনেকটাই কাটিয়ে উঠা সম্ভব হবে।