
রাজবাড়ী সদর উপজেলার বরাট ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় ভবন স্থানান্তরের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমান স্থানেই ইউনিয়ন পরিষদ ভবন রাখার দাবিতে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পাচুরিয়া রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
‘৫নং বরাট ইউনিয়ন স্থানান্তর প্রতিরোধ কমিটি’র ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে পাঁচ শতাধিক মানুষ অংশ নেন। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন শেষে একই স্থানে সংবাদ সম্মেলন করেন আয়োজকরা।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন নবগ্রাম বাজার ব্যবসায়ী পরিষদের সভাপতি আব্দুস সাত্তার, মরডাঙ্গা সেকেন্দারিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার শিক্ষক আলতাফ হোসেন, শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক, বরাট ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য কাজী রফিকুল ইসলাম, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুল হালিম মিয়া, জেলা সদর হাসপাতালের নার্সিং কর্মকর্তা সোহেল প্রামাণিক, নবগ্রাম বাজারের পল্লী চিকিৎসক এম এ মালেক ও স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার বেপারীসহ অনেকে।
বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও স্থানীয় জনগণের সুবিধার কথা বিবেচনা করে বরাট ইউনিয়ন পরিষদ ভবন বর্তমান স্থানেই রাখা প্রয়োজন। ভবনটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হলে ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষকে সরকারি সেবা নিতে অতিরিক্ত ভোগান্তিতে পড়তে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে নবগ্রাম বাজার ব্যবসায়ী পরিষদের সভাপতি আব্দুস সাত্তার ও শিক্ষক আলতাফ হোসেন বলেন, বরাট ইউনিয়ন পরিষদ ১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। পরিষদের জন্য জমি ক্রয়ের উদ্যোগ নেওয়ার পর তৎকালীন প্রথম নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান খন্দকার অলিয়ার রহমান ১৯৬১-৬২ সালে মাখন লাল পোদ্দারের কাছ থেকে ৫৪ শতাংশ জমি ইউনিয়ন পরিষদের নামে ক্রয় করেন। দীর্ঘদিন ধরে ওই জমিতেই ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।
তারা আরও বলেন, ইউনিয়ন পরিষদকে কেন্দ্র করে বর্তমান এলাকায় ব্যবসা-বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ একটি কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। এর আশপাশে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী পাচুরিয়া রেলস্টেশন, ব্যাংক, কলেজসহ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং প্রায় ৭০০ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। পরিষদ ভবন অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হলে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি বাড়বে।
আয়োজকদের দাবি, উড়াকান্দা এলাকায় নতুন করে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন স্থানান্তরের সিদ্ধান্তের কথা শোনা যাচ্ছে। প্রস্তাবিত স্থানটি নদীতীর থেকে প্রায় ১২০ মিটার দূরে হওয়ায় সেখানে নদীভাঙনের আশঙ্কাও রয়েছে। তাই ভবন স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানান তারা।
বক্তারা বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন কোথায় থাকবে, সে বিষয়ে স্থানীয় জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, জনগণের সুবিধা এবং ইউনিয়ন পরিষদের নামে ক্রয় করা জমির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বর্তমান স্থানেই পরিষদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার দাবি জানান তারা।
তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দাবি উপেক্ষা করে বরাট ইউনিয়ন পরিষদ ভবন স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হলে প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।