
শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাসপ্তমী আজ রবিবার (২৯ সেপ্টেম্বর)। ষষ্ঠী থেকে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হলেও সপ্তমী থেকেই মূল পূজা কার্যক্রম শুরু হয়। এদিন থেকেই দেবীর অন্নভোগ আরম্ভ হয়।
রাজবাড়ী শহরের বিনোদপুর আমতলা সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরসহ জেলার বিভিন্ন মণ্ডপে সকাল থেকেই ভক্তরা উপস্থিত হয়ে সপ্তমীর পূজা-অর্চনায় অংশ নিচ্ছেন। শাস্ত্রীয় নিয়মে নবপত্রিকা স্থাপন, পূজা-পার্বণ ও নানা আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেবী দুর্গার আরাধনা করা হচ্ছে। ভক্তদের বিশ্বাস, সপ্তমীতে দেবী জাগ্রত হয়ে দশ হাতে অশুভ শক্তিকে দমন করবেন।
হিন্দু শাস্ত্রমতে, এবার দেবী গজে (হাতি) চড়ে আগমন করেছেন, যা মর্ত্যলোকে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রতীক। সকালে নবপত্রিকা স্থাপনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। কদলী (কলা), কচু, হলুদ, জয়ন্তী, বেল, দাড়িম্ব, অশোক, মান ও ধান—এই নয়টি উদ্ভিদ দিয়ে সাজানো নবপত্রিকা (কলাবউ) প্রতিমার পাশে স্থাপন করে পূজা করা হয়।
এ বছর রাজবাড়ীর পাঁচ উপজেলায় মোট ৪৪০টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আমতলা সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরের সভাপতি পরিমল কুমার সরকার জানান, টানা তিন বছর ধরে তিনি ও স্থানীয়রা এ পূজা আয়োজন করে আসছেন। তবে এবারের আয়োজন পূর্বের তুলনায় ব্যতিক্রমী। আধুনিক লাইটিং ও সাউন্ড সিস্টেমে সাজানো হয়েছে মণ্ডপ, যা দর্শনার্থীদের আগ্রহ আরও বাড়িয়েছে।
এদিকে পূজাকে ঘিরে প্রতিদিনই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল ও ভ্রাম্যমাণ টিম দায়িত্ব পালন করছে। আয়োজকদের মতে, নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, এতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না।