
রাজবাড়ী জেলা সদরের আলিপুর ইউনিয়নে কাতার প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মো. সাদ্দাম (১৯) নামে এক যুবককে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন এলাকাবাসী। গত শুক্রবার (১১ জুলাই) দিবাগত রাত ১টার দিকে আলাদীপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আটক সাদ্দাম ইন্দ্রনারায়ণপুর গ্রামের আবু বক্কার শেখের ছেলে। অভিযুক্ত যুবক ভুক্তভোগী নারীর প্রতিবেশী।
ভুক্তভোগী নারী (৩৫) অভিযোগ করে বলেন, “প্রায় ১৫ দিন ধরে সাদ্দাম আমাকে ইমোতে অশ্লীল ছবি পাঠিয়ে কুপ্রস্তাব দিচ্ছিল। রাজি না হওয়ায় এডিট করা ছবি ভাইরাল করার হুমকি দিয়ে ২ হাজার ৩০০ টাকা বিকাশে নেয়। ঘটনার রাতে আমি প্রকৃতির ডাকে বাইরে গেলে সে আমার খাটের নিচে লুকিয়ে থাকে। ফিরে এসে দরজা বন্ধ করতেই গলায় ছুরি ধরে জোর করে ধর্ষণ করে। ধস্তাধস্তির সময় ছুরির আঘাতে আমার হাত কেটে যায়। আমার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে সাদ্দামকে ধরে ফেলে।”
ভুক্তভোগী নারী রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগীর স্বামী মুঠোফোনে বলেন, “আমি জীবিকার তাগিদে বিদেশে আছি। আমার স্ত্রীর ওপর যে বর্বরতা হয়েছে, আমি এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।”
ভুক্তভোগীর শ্বশুর আলি হোসেন বলেন, “আমরা আলাদা রুমে ঘুমিয়ে ছিলাম। ছেলের বউয়ের চিৎকারে জেগে উঠি। প্রতিবেশী হৃদয় তখন রাস্তায় পাহারায় ছিল, সাদ্দাম পালাতে গেলে তাকেই ধরে ফেলে।”
শাশুড়ি মমতাজ বেগম বলেন, “আমার ছেলের বউয়ের চরিত্রে কখনো সন্দেহ হয়নি। সাদ্দাম যে অপরাধ করেছে, তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
তবে অভিযুক্ত সাদ্দাম পাল্টা দাবি করে বলেন, “কেউ আমার ছবি দিয়ে ভুয়া ইমো আইডি খুলে কথা বলেছে। চাচি আমাকে ফোনে ডেকে বাড়িতে নেয়, পরে ব্লেড দিয়ে কেটে ফাঁসায়। আমি ধর্ষণ করিনি।”
সাদ্দামের মা কোহিনুর বেগম বলেন, “আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে। ওই মহিলা তো তার চাচি হয়। কোনো সমস্যা হলে আমাদের জানানো যেতো।”
রাজবাড়ী সদর থানার এসআই মো. এনায়েত শিকদার জানান, “ভুক্তভোগী নারী মামলা করেছেন। তার মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। তদন্ত চলমান রয়েছে। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”