
রাজবাড়ীতে এক নারী আইনজীবিকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়ে ধর্ষণ চেষ্টা, শ্লীলতাহানী ও ৩০ লক্ষ টাকা চাঁদার দাবীতে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর গ্রহণের অভিযোগে পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) সহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে।
সোমবার বিকালে রাজবাড়ী নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল আদালতে মামলাটি দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী ওই আইনজীবি।
এ ঘটনায় রাজবাড়ী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক ( জেলা ও দায়রা জজ) শেখ মফিজুর রহমান মামলাটি রাজবাড়ী সদর থানার ওসিকে এফআইআর করার নির্দেশ প্রদান করেছেন।
তবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সদর থানায় কোন এফআইআর গ্রহনের নির্দেশনা যায়নি।
মামলার আসামীরা হলো, রাজশাহী মহানগরের চন্দ্রিমা থানার ছোট বনগ্রামের মৃত ইমাম শেখের ছেলে শেখ আব্দুল্লাহ, রাজশাহীর চারঘাট থানার চকবেলঘরিয়া গ্রামের লুৎফর রহমানের ছেলে ও রাজশাহী আরএমপি বোয়ালিয়া থানার সাব ইন্সপেক্টর (এসআই) মোঃ মাহফুজুর রহমান, লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী থানার আদিতমারী গ্রামের মোঃ ওয়াহিদ উল আলমের ছেলে ও বর্তমান রাজশাহী শাহমখদুম থানার শাহমখদুম এলাকার বাসিন্দা মোঃ জাহিদ উল আলম, রাজশাহীর রাজপাড়া থানার চন্ডিপুর গ্রামের মোঃ শাহিন ইসলাম মোল্যার ছেলে রোমান ইসলাম ও মোঃ ছালাম।
মামলার অভিযোগে জানাযায়,নারী আইনজীবী আদালত থেকে বের হয়ে প্রধান সড়কে গেলে ২০২৪ সালের ১ এপ্রিল দুপুর দেড়টা থেকে আড়াই টার দিকে রাজবাড়ী জেলা পরিষদ ডাক বাংলোর সামনে ট্রাফিক আইল্যান্ডের নিকট তাকে আটক করে পুলিশ।
গাড়ীতে একজন নারী কনষ্টেবল থাকলেও পূর্বপরিকল্পিত ভাবে নারী আইনজীবিকে নিয়ে যাওয়ার সময় রাতে তার উপরে শারীরিক মানসিক নির্যাতন করার জন্য মহিলা কনস্টেবলকে বমিভাব বন্ধের কথা বলে ঘুমের ট্যাবলেট খাওয়ায়। গাড়ীর ভিতরে আলো বন্ধ করে গাড়ীর ভিতরে ভৌতিক পরিবেশ সৃষ্টি করে এসআই মোঃ মাহফুজুর রহমান হাত থেকে মোবাইল কেড়ে নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে।
ওই সময়ে মোঃ জাহিদ উল আলম ও মোঃ ছালাম নারী আইনজীবির গায়ে হাত তোলে এবং চর ও থাপ্পড় মারতে থাকে। এ সময় চলন্ত গাড়ীতে আব্দুল্লাহ ও এসআই মোঃ মাহফুজুর রহমান শরীরের বিভিন্ন স্পর্শ কাতর স্থানে হাত দেয়। পড়নের কাপড় চোপড় আংশিক ছিড়ে ফেলে। মোঃ ছালাম ও রোমান ইসলাম শরীরের বিভিন্ন স্পর্শ কাতর স্থানে হাত দিয়ে অন্যায় অবৈধ ভাবে শরীরের বিভিন্ন স্থানে পৈচাশিক ভাবে চুমু দিতে থাকে।
এক পর্যায়ে সকলে ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষনের চেষ্টা করতে থাকে। নারী আইনজীবির সাথে জবরদস্তি করতে থাকলে ও শোর চিৎকারে মহিলা কনষ্টেবল জেগে উঠে। ফলে তারা চুপ হয়ে যায়।
গত ২০২৪ সালের ১ এপ্রিল দিবাগত রাত ৩ টা থেকে সাড়ে ৩ টার সময়ে (২ এপ্রিল) নারী আইনজীবিকে নিয়ে রাজশাহী জেলার বোয়ালিয়া থানায় পৌঁছায়। যাবার পর থানায় একটি কক্ষে আটক রাখে। পরের দিন ২০২৪ সালের ২ এপ্রিল রাজশাহী চীফ মেট্রেপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মহানগর আদালতে চালান দেয়।
এসআই মাহফুজুর রহমান তদন্তকারী কর্মকর্তা হওয়ায় ও বাদী নারী হওয়ায় সত্ত্বেও অযৌক্তিক ভাবে রিমান্ডের আবেদন করে। আদালত রিমান্ডের আবেদনের প্রেক্ষিতে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এসআই মাহফুজুর রহমান ২০২৪ সালের ১৬ এপ্রিল থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত রিমান্ডে এনে নারী আইনজীবিকে শারীরিক, মানসিক নির্যাতন শুরু করে। রিমান্ডের সময় অন্য কোন সাধারণ লোকজন রিমান্ড কক্ষে উপস্থিত না থাকার আইনুনানুগ সুযোগ না থাকা সত্ত্বেও এসআই মাহফুজুর রহমান অন্যায় ভাবে রিমান্ডে নিয়ে রিমান্ডের কক্ষে শেখ আব্দুল্লাহ, জাহিদ উল আলম,রোমান ইসলাম ও মোঃ ছালামকে রিমান্ড স্থলে রাখে। রিমান্ডের সময়ে তারা সার্বক্ষনিক ভাবে দাড় করে রাখে।
এ সময় সকলে নারী আইনজীবিকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও শারীরিক, মানসিক নির্যাতন করে। এসআই মাহফুজুর রহমানের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় অন্যান্যরা ভিডিওচিত্র ও স্থিরচিত্র বিনা অনুমতিতে ধারন করে। যা আদালতে যাওয়ার আগেই প্রকাশ পায়।
তারা রিমান্ড চলাকালীন সময়ে থানা হাজতে রেখে ১০০টাকা মূল্যের তিনটি নন জুডিসিয়াল সাদা স্ট্যাম্পে জীবননাশের হুমকি প্রদান করে এবং নানারুপ ভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে জোর পূর্বক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়।
তার নিকট ৩০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করে। না হলে নারী আইনজীবিকে জীবনে শেষ করে ফেলবে বলে হুমকি দেয়।
একই সাথে এসআই মাহফুজুর রহমান প্রত্যক্ষ কাছে থাকা এন্ডড্রয়েট মোবাইল সেট কেড়ে নিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তিগত তথ্য বিভিন্ন লোকজনের নিকট পাচার করেন। রিমান্ড চলাকালীন সময় প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ও মদদে অমানষিক আচার, আচরণ ও নির্যাতন করে।
রাজবাড়ী সদর থানসয় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাহমুদুর রহমান জানান, কোর্ট থেকে এখনো কোন নির্দেশনার পাইনি। নির্দেশ পেলে এফআইআর গ্রহন করা হবে।