
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার পাকুড়িয়া এলাকায় জাবেদ পারভেজ কিন্ডারগার্টেনের শিশু শ্রেণির ছাত্র মোহাম্মদ জায়ান রহমান–এর মর্মান্তিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। এই অকালমৃত্যুর প্রতিবাদে ও দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন আয়োজন করে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বক্তারা বলেন, “এ ধরনের নির্মম ঘটনার বিচার না হলে সমাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন সম্ভব নয়। দায়ীদের কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”
অভিভাবক–শিক্ষকরা জানান, শিশু জায়ানের অস্বাভাবিক মৃত্যু তাঁদের মর্মাহত করেছে। তারা বলেন— “এ মৃত্যুকে কোনোভাবে স্বাভাবিক বলা যায় না। আমরা খুনির দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।”
জাবেদ পারভেজ কিন্ডারগার্টেন কর্তৃপক্ষ জায়ানের মৃত্যুকে বেদনাদায়ক উল্লেখ করে গভীর শোক প্রকাশ করে। বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক বলেন, জায়ানের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।”
স্থানীয়দের ঐক্যবদ্ধ দাবি, দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।
মানববন্ধনে জাবেদ পারভেজ কিন্ডারগার্টেন এবং জাবেদ পারভেজ মেমোরিয়াল ইনস্টিটিউট–এর শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ছাড়াও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। ব্যানার–ফেস্টুন হাতে দাঁড়িয়ে তারা দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি তোলেন।
মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা আলফাডাঙ্গা থানা পর্যন্ত গিয়ে ন্যায্য বিচারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় আলফাডাঙ্গা থানার এসআই লিয়াকত হোসেন উপস্থিতদের উদ্দেশ্যে বলেন, “পালাতোক আসামিদের নাম লিখিত ভাবে দিতে অনুরোধ করছি, যাতে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়।”
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন নিহত জায়ানের মা সিনথিয়া বেগম, চাচা হাবিবুর রহমান, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্বদের মধ্যে ছিলেন বিএনপি নেতা খসবুর রহমান খোকন, নুরুজ্জামান খসরু, আমিনুর রহমান, এবং সবশেষে এসে যোগ দেন আরিফুর রহমান দোলন।
শোকাহত এলাকায় ন্যায় বিচারের প্রত্যাশা
জায়ানের মৃত্যুতে পাকুড়িয়া–সহ আশপাশের এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা বলছেন, “দ্রুত বিচার এবং দায়ীদের কঠোর শাস্তির মধ্য দিয়েই জায়ানের মৃত্যুর প্রকৃত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হবে।”