
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে কবিতায় মৃত্তিকার গন্ধ আর মানবতার চাষাবাদে সিক্ত এক অনন্য কবিতা সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়েছে। "জয় হোক কবি ও কবিতার, চাষাবাদ হোক মানবতার" এই প্রাণবন্ত স্লোগানকে হৃদয়ে ধারণ করে "ভূঞাপুর সাহিত্য আড্ডা" নামটি স্থানীয় সাহিত্য-সংস্কৃতির অঙ্গনে এক অনবদ্য সংযোজন। এই আড্ডাটি কবি ও গবেষক প্রয়াত শফিউদ্দিন তালুকদার এর স্মৃতিকে অম্লান রাখার লক্ষ্যে নিবেদিত হয়েছে, যেখানে শব্দের শক্তিতে ফুটে উঠেছে তাঁর সাহিত্য দর্শন ও মানবিক চেতনা।
বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) বিকেল ৪ টায় ভূঞাপুর উপজেলা সদরের স্বাধীনতা কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত এই আড্ডার সূচনা হয় এক মিনিট নীরবতা ও দোয়ার মধ্য দিয়ে। বিশিষ্ট কবি আবদুল হালীম খাঁ-এর সভাপতিত্বে আড্ডার সূচনা হলেও পরবর্তীতে তাঁর অনুপস্থিতিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও কবি হামিদুল আলতাফ সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। আলোচনায় অংশ নেন শিক্ষা হিতৈষী খায়রুজ্জামান ভূঁইয়া, সাংস্কৃতিক যোদ্ধা আব্দুল করিম খান, হাজী ইসমাইল খান কারিগরি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তার খান, কবি ও প্রাবন্ধিক ড. আলী রেজা এবং কবি আখতার হোসেন খান। তাঁদের বক্তব্যে উঠে আসে সাহিত্যের সামাজিক দায়বদ্ধতা, শফিউদ্দিন তালুকদারের অবদান এবং ভূঞাপুরে সাহিত্য চর্চার ঐতিহ্য । কবি হারুন অর রশিদ-এর মনমুগ্ধকর সঞ্চালনায় কবিতা পাঠের আসরে এসময় কবিতা পাঠে অংশ নেন কবি সাইফুল ইসলাম, কবি চাঁন মাহমুদ, কবি আব্দুছ ছালাম, কবি এম এ বাছেদ, কবি এম. কে হাতেম, কবি লিমা রহমান, কবি রনী খাতুন, কবি হালিমা খাতুন, কবি শফিকুল ইসলাম, কবি শাহরিয়ার শ্রাবন, কবি শিশির খান, কন্ঠযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন খান প্রমুখ। কবিদের কণ্ঠে ধ্বনিত হয় জীবন, সংগ্রাম, প্রেম ও মানবতার নানা রূপ। "শুধু পোড়াও আমার পৃথিবী","অগ্নিশিখা", "শিকড়","সাহিত্য চর্চায় ভূঞাপুর" এই কবিতাগুলো শ্রোতাদের নিয়ে যায় এক অন্যরকম ভাবজগতে। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য "মানুষ মানে আরো কিছু","অহমিকা"ও "পশুত্ব" কবিতাগুলো। এই আড্ডার বিশেষত্ব ছিল কবিতার গভীরতা ও নান্দনিকতা। আলোচকদের মতে, "শব্দের চাষাবাদ কেবল কাব্যিক নয়, সমাজ নির্মাণেরও হাতিয়ার"। কবিতা ও গদ্য কীভাবে সমাজের আয়না হয়ে উঠতে পারে, তা এই আড্ডায় প্রাণবন্ত ভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। শফিউদ্দিন তালুকদারের স্মরণে উৎসর্গিত এই আড্ডা যেন তাঁরই দর্শনের প্রতিফলন-যেখানে মানুষের মর্যাদা, অহংকারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম এবং পশুত্বের ঊর্ধ্বে উঠে মানবিক হওয়ার বার্তা স্পষ্ট হয় । ২৯ আগস্ট ২০২৫, শুক্রবার বিকেল ৪টায় ভূঞাপুর সাহিত্য আড্ডার পরবর্তী আসর বসবে। এই ধারাবাহিকতা শুধু স্থানীয় সাহিত্যিকদের জন্য নয়, বাংলা ভাষার গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় রচনায়ও একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে আশা করা যায়। কবিতা পাঠ, আলোচনা ও আবৃত্তির মাধ্যমে ভূঞাপুর হয়ে উঠুক বাংলা সাহিত্যের এক উজ্জ্বল কেন্দ্রস্থল।