
বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার প্রভাষক পরিষদের ঘোষিত ‘নো পে নো প্রমোশন’কর্মসূচি ফরিদপুরে টানা চলছে। দাবির ন্যায্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মঙ্গলবার সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের শহর ক্যাম্পাসের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন প্রভাষক ক্যাডারের শিক্ষকগণ।
আয়োজিত কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন প্রভাষক পরিষদ ফরিদপুর জেলা ইউনিটের আহ্বায়ক মোহাম্মদ হাসিব মৃধা। উপস্থিত ছিলেন—প্রভাষক পরিষদ সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ শাখার সদস্য সচিব ওসমান মোল্লা; প্রভাষক পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ও সরকারি সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক বাবুল তালুকদার; পরিষদের প্রচার সম্পাদক ও সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম; প্রভাষক পরিষদ ফরিদপুর জেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক শামীম আহমেদ সহ অনেকে।
বক্তারা বলেন, ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান প্রশাসনিক বৈষম্য দূরীকরণের প্রত্যাশা জাগিয়েছে, কিন্তু শিক্ষা ক্যাডার সে প্রত্যাশার প্রতিফলন এখনো দেখতে পায়নি। ৩৭তম বিসিএসসহ পরবর্তী ব্যাচের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আজও প্রথম পদেই আটকে আছেন—যা অন্যান্য ক্যাডারের তুলনায় গভীর বৈষম্য ও হতাশার জন্ম দিয়েছে। বক্তাদের মতে, ১২ বছর ধরে পদোন্নতি না পাওয়া কেবল অন্যায়ই নয়, বরং প্রাতিষ্ঠানিক অসমতার স্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ।
বক্তারা অভিযোগ করেন,পরিবর্তনের অঙ্গীকার করে গঠিত নতুন সরকার এখনো শিক্ষা ক্যাডারের কাঙ্ক্ষিত পদোন্নতি-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া শুরু করেনি। ফলে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে। বক্তারা সতর্ক করে বলেন—দাবি দ্রুত পূরণ করা না হলে প্রভাষক পরিষদ আরও কঠোর ও সর্বব্যাপী কর্মসূচির দিকে যেতে বাধ্য হবে।
আগামীকাল বুধবার দেশের অন্যান্য স্থানের মতো ফরিদপুরের প্রভাষকরাও মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর প্রাঙ্গণে ‘নো প্রমোশন, নো ওয়ার্ক’ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।
কর্মসূচিতে সংগঠন তিন দফা দাবি তুলে ধরে।দাবিগুলো হলো: (ক)প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে দ্রুত পদোন্নতির সরকারি প্রজ্ঞাপন প্রকাশ।(খ)২০০০ বিধি অনুযায়ী কলেজ জাতীয়করণের তারিখ থেকে ক্যাডারভুক্তির জটিলতা সৃষ্টিকারী সব অনিয়মিত ও অবৈধ প্রজ্ঞাপন বাতিল।(গ)শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করা।
কর্মসূচিতে ফরিদপুরের বিভিন্ন সরকারি কলেজের শিক্ষা ক্যাডারভুক্ত শিক্ষকগণ উপস্থিত ছিলেন।