কোটচাঁদপুরের ডলিয়ার পরকীয়ার খপ্পরে পড়ে ৩৩ বছরের সংসার ভেঙে সর্বস্বান্ত হয়ে দিশেহারা সৌদি প্রবাসী রেজাউল।
ঝিনাইদহ জেলার কোটচাঁদপুর উপজেলার দয়ারামপুর গ্রামের মৃত আলতাফ হোসেনের কন্যা ডলিয়া অবশেষে তার প্রবাসী স্বামীর ৩৩ বছরের সংসার ছেড়ে তার থেকে প্রায় ১৫ বছরের ছোট এক যুবকে বিবাহ করলো।
এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে ডলিয়ার যে ছেলের সাথে বিবাহ হয়েছিল তার নাম রেজাউল ইসলাম। সে বাড়ি পাশের জেলা চুয়াডাঙ্গায়। সে ঐ জেলার আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের বিদ্যাধরপুর গ্রামের মৃত ইসহাক আলীর ছেলে।
ডলিয়ার পূর্বের স্বামী রেজাউল অভিযোগ করে বলেন যে ১৯৯১ সালে তাদের বিবাহ হয়। বিবাহ হওয়ার পরে ৬ বছরে তাদের ঘরে ২টা মেয়ে সন্তান জন্মগ্রহণ করে। তখন সে তার দুই কন্যা ও স্ত্রীর সুখময় ভবিষ্যৎ এর কথা চিন্তা করে ১৯৯৭ সালে সৌদি আরবে চলে যায়। সৌদি চলে যাওয়ার পর দুই বছর হলে সে ঝিনাইদহে নৌবাহিনীতে কর্মরত মিজান নামে একজনের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে চলে যায়। আমার বাড়ির লোকজন তাকে নিয়ে আসলে আমি দেশে ফিরে আসি। সে তখন বলে যে আমার ভুল হয়ে গেছে আমাকে ক্ষমা করে দাও এরকম আর হবে না তখন আমি আমার দুইটা মেয়ের দিকে তাকিয়ে তাকে সব ক্ষমা করে দিই। ক্ষমা করে দেয়ার পর আমি আবার প্রবাসে চলে যাই। আমি প্রণয় প্রবাসে যাওয়ার পর আমার স্ত্রী ডলিয়া বলে যে আমার গ্রামে থাকতে অসুবিধা হচ্ছে গ্রামের মানুষজন প্রায়ই ওই ঘটনা নিয়ে আমাকে বিভিন্ন বাজে কথা বলছে। তখন আমি তাকে সরল বিশ্বাস করে সাবদার পুর বাজারে ৯ শতকের একটি জায়গা কিনে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা খরচ করে দোতলা বিশিষ্ট একটি বাড়ি করি। সেখানে আমার স্ত্রী ডলিয়া দুই মেয়ে নিয়ে বসবাস শুরু করে।
ইতিমধ্যে বড় মেয়ে এবং ছোট মেয়ে বিবাহযোগ্য হলে তাদের একজনকে যশোর ঝিকরগাছা উপজেলার কৃষ্ণনগর গ্রামে বিবাহ দিই। ওই মেয়ের বর্তমানে ১০ বছরের একটি ছেলে ও ৫ বছরের একটি মেয়ে রয়েছে। দ্বিতীয় মেয়েকে মেহেরপুরে বিবাহ দিয়েছি তার ৯ বছর ও ৫ বছরের ২টা ছেলে রয়েছে।
প্রায় ২ বছর হলো আমি দেশের ফিরে আসি। দেশে ফিরে আসার পর সাবদারপুরের ওই বাসায় আমরা বসবাস করতে থাকি। ইতিমধ্যে স্থানীয়রা তার নামে আমাকে বিভিন্ন কথা বলতে থাকে। এবং এই বাজারে বিকাশের এক দোকানদার প্রায় আমার বাসায় আসা-যাওয়া করে। তার নাম কামরুল সে আমাকে বলে যে কামরুল আমার ধর্ম ভাই। আমি তার ধর্ম ভাই বলে তার নিয়ে কোনো সন্দেহ করি নাই। ইতিমধ্যে কামরুল এবং আমার স্ত্রী ডলিয়া বলে যে মধুহাটি ইউনিয়নের বাজার গোপালপুরে ২৯ শতক জমি বিক্রি আছে। ওই জমিটা বিক্রি করে আমরা ওখানে বাড়ি করবো। কামরুল আর এই বাজারে থাকবে না। তখন আমি তাদের কথায় রাজি হই এবং ২৯ শতক জমি ২৪ লক্ষ টাকায় ক্রয় করার জন্য সম্মত হই। ইহাতে কামরুল অর্ধেক টাকা দেবে। আমি এই জমি ক্রয় করার জন্য ১২ লক্ষ্য টাকা দিলেও কামরুল টাকা দিতে পারছে না। এই মর্মে তারা দেরি করতে থাকে। তবে গোপনে গোপনে আমার স্ত্রী তার নিকট থেকে ১২লক্ষ টাকা দিয়ে জমি কামরুলের নামে রেজিস্ট্রি করে নেয়। ঘটনা আমি জানিনা। তারপর জমির মালিক রে জিজ্ঞাসা করি যে জমি রেজিস্ট্রি করার ব্যাপারে কি হচ্ছে? তখন সে বলে যে জমি তো কয়েক মাস আগে রেজিস্ট্রি করে দিয়েছি। ঘটনা শুনে আমি আকাশ থেকে পড়ি। তখন ঘরে ফিরে স্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করলে সে আমার সাথে চরম খারাপ ব্যবহার করে। তখন আমাকে জানিয়ে দেয় সে নাকি আমাকে তালাক দিয়েছে বেশ কয়েক মাস আগে। এই অবস্থায় আমি প্রাণভয়ে ওই রাত্রি আমার সমস্ত রকম কাপড়-চোপড় ফেলে রেখে পালিয়ে চলে আসি। তার বেশ কয়েকদিন পরে আমার ফিরে এসে কাপড় চোপড় এবং ব্যবহারকৃত মোবাইল ফেরত দেয়। আমি এখন কি করবো? বুঝে উঠতে পারছি না আমি কোথায় গেলে এর বিচার পাবো। আমার প্রবাস জীবনের সমস্ত আয়ের টাকা তার কাছে ছিল সে নিয়ে নিয়েছে।
রেজাউল আরো জানায় আমি এর সুবিচার পাওয়ার জন্য ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মধুহাটি ইউনিয়ন পরিষদে পারিবারিক আদালতে একটি অভিযোগ দায়ের করেছি। গত বৃহস্পতিবার সেখানে সালিশ হওয়ার কথা ছিল কিন্তু চেয়ারম্যান অজ্ঞাত কারণবশত সেই সালিশ বাতিল করেছে।
রেজাউলের গ্রামবাসী জানাই রেজাউল খুব ভালো ছেলে স্ত্রীকে আঘাত বিশ্বাস করত। তার ভালবাসায় ছিল অন্ধ। তার প্রসঙ্গে কেউ কোনো কথা বললে সে বিশ্বাস করত না। রেজাউল প্রবাসে যাওয়ার পর তার স্ত্রী বিভিন্ন লোকের সাথে অবৈধ মেলামেশা শুরু করে। যাহা নিয়ে রেজাউলের সাবদারপুরের বাড়িতে অনেক বিচার হয়েছে। রেজাউল তা জানে না। রেজাউল ফিরে আসার পরে তার এই সমস্ত অনৈতিক কার্যকলাপে বাধা হয়ে দাঁড়ায় যার কারণে সে রেজাউলের সাথে খারাপ ব্যবহার করে। ওই অঞ্চলের লোক তাকে খুব খারাপ নারী হিসেবে জানে যার কারণে সে ওখান থেকে বাড়ি বিক্রি করে অন্যত্র চলে যেতে চায়। রেজাউল বিশ্বাস করে এখন সর্বস্ব।
এ প্রসঙ্গে ডলিয়ার গ্রামের বাড়ি কোটচাঁদপুরের দয়ারামপুর গ্রামে গেলে তার আপন ভাই স্বপনের স্ত্রী জহুরা বেগম বলে যে ডালিয়া অত্যন্ত খারাপ চরিত্রের একজন নারী। জীবনে বহু পুরুষের সাথে সে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। কিন্তু তার স্বামী রেজাউল খুব ভালো মানুষ যার কারণে তাকে অত্যন্ত বিশ্বাস করত। অবশেষে সে সেই বিশ্বাসের প্রতিদান স্বরূপ তার প্রবাস জীবনের সমস্ত আয় কে হারিয়ে সে এখন পথের ভিখারি হয়ে গেছে। তার কারণে আমরা এলাকায় মুখ দেখাতে পারি না।
ডলিয়ার এক চাচাতো ভাই বলেন সাবদার পুর থাকতে সে এতই অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিল যে তাকে আর ওখানে থাকা সম্ভব না। সেতার স্বামীর সমস্ত টাকা-পয়সা নিয়ে চলে গেছে। স্বামীর সমস্ত টাকা তার কাছেই থাকতো। দয়ারামপুর গ্রামের মানুষের মুখে মুখে ডলিয়ার কুকীর্তির ইতিহাস।
এই ঘটনা প্রসঙ্গে ডলিয়া এবং তার বর্তমান স্বামী কামরুলের সাথে সরাসরি কথা হলে কামরুল বলে যে আমি তাকে শরিয়া মোতাবেক বিবাহ করেছি। আমি এই বিশাল ইমারত গড়ে তুলেছি ।আমি বিকাশের ব্যবসা করতাম সেখান থেকে লাভ । তাদের কোন টাকা পয়সা এর ভিতর নেই। সে আরো জানায় ঝিনাইদহের একজন ডিবি অফিসার বলেছে আপনাদের এই প্রসঙ্গে কোন সাংবাদিক আসলে তাকে আমার সাথে কথা বলতে বলবেন।