
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার পদ্মা নদীতে প্রকাশ্যে দিবালোকে ব্যাবসায়ীদের ট্রলারে ডাকাতির ঘটনায় জরিত সাত ডাকাতকে আটক করেছে নৌ-পুলিশ সদস্যরা।
মঙ্গলবার (২ মে) রাতে মুন্সীগঞ্জ জেলার মাঝির ঘাটসহ পদ্মা নদীর বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলেন, শরিয়তপুর জেলার রহমান, নড়িয়া এলাকার ইবাত আলী, চাদপুর জেলার তাজুল ইসলাম, মুন্সিগঞ্জ জেলার মহসিন, মেহেদী ও শিহাব নারায়নগঞ্জ জেলার শাহিন।
এ সময় তাদের কাছ থেকে দেশীয় তৈরি ৩ টি পাইপগান, বিপুল সংখ্যক গুলি, ১৫ লক্ষ টাকা উদ্ধার , একটি স্পীডবোট, ৯ টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নৌ পুলিশ ফরিদপুর রিজিওনের পুলিশ সুপার মো. আশিক সাইদ।
এর আগে, মঙ্গলবার বিকেল ৩ টার দিকে গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ৫ নং ফেরি ঘাট এলাকায় প্রকাশ্যে দিবালোকে এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
ডাকাতির শিকার গরু ব্যবসায়ীরা হলেন, হেলাল উদ্দিন, মোস্তাক বেপারী, মোশারফ হোসেন, দুলাল খান, ইউসুফ বেপারী, জিন্না খান, লোকমান বেপারী, ইমতাজ শেখ, শাহজাহান বিশ্বাস, লিয়াকত বিশ্বাস, রফিক মন্ডল, আলিমসহ ৭০ থেকে ৮০ জন।
এ সময় ডাকাত দলের মারপিটে আহত উত্তর দৌলতদিয়া কিয়ামুদ্দিন মোল্লা পাড়ার নিমাই মোল্লার ছেলে বাবলু মোল্লা (৪০) গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছে। আর দৌলতদিয়া ইউনিয়নের হোসেন মন্ডল পাড়ার হায়াত আলীর ছেলে ট্রলারের মাঝি ইদ্রিস মাঝি প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
ডাকাতি হওয়া ট্রলারে থাকা হান্নান বেপারী বলেন, মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাট থেকে ট্রলারে ৭০ থেকে ৮০ জন গরু-ছাগল ব্যবসায়ী দৌলতদিয়া ঘাটের উদ্দেশ্য আসি। দৌলতদিয়া ৫ নং ফেরি ঘাটের অদুরে স্প্রিডবোট ১৫-২০ জনের মুখোশধারী ও মুখোশ ছাড়া প্যান্ট ও লুঙ্গি পড়া ডাকাত দল এসে প্রথমে মাঝিকে কুপিয়ে জখম করে। এসময় অস্ত্র দিয়ে সবাইকে মারপিট করে কাছে থাকা টাকা নিয়ে তারা চলে যায়।
রাজবাড়ী লক্ষীকোল এলাকার গরু ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দিন সরদার ও মুনতাজ বেপারী বলেন, ট্রলারটি দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটের কিছুদুর থাকতেই ডান পাশ দিয়ে একটি স্প্রিডবোট আসতে দেখতে পান। প্রথমে তারা মনে করেছিলেন সেটি যাত্রী পারাপারের বোট। পরে স্প্রিড বোটটি তাদের ট্রলারের কাছে আসে এবং সেই বোট থেকে অস্ত্রসস্ত্র হাতে মুখোশ পড়া ১৫-২০ জনের একদল ডাকাত তাদের ট্রলারে ওঠে। এ সময় তাদের ট্রলারে থাকা গরু ব্যবসায়ীদেরকে বেধড়ক মারপিট করে। মারধরের এক পর্যায়ে ব্যবসায়ীদের কাছে থাকা গরু বিক্রির অন্তত এক কোটি টাকা লুটে নিয়ে যায় ।
নৌ পুলিশ ফরিদপুর রিজিওনের পুলিশ সুপার মো. আশিক সাইদ বলেন, ঘটনা ঘটার সাথে সাথে দৌলতদিয়া নৌ-ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি জেএম সিরাজুল কবির নদী পথে টহল ও ডাকাতদের ধাওয়া করতে থাকে। এক পর্যায়ে ওই দলের সাতজনকে আটকসহ মালামাল জব্দ করতে সক্ষম হয়। বাকিদের আটকে এখনও অভিযান চলমান রয়েছে।