মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন জুলাই মাসে শহীদ ও সাহসিকতার সঙ্গে যুদ্ধ করা যোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিতে সরকার একটি বিশেষ অধ্যাদেশ জারি করেছে। সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে এই অধ্যাদেশ অনুমোদন পাওয়ার পর রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের মাধ্যমে এটি কার্যকর হয়।
অধ্যাদেশ অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের জুলাই মাসে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘটিত গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধে যারা অংশগ্রহণ করেছেন এবং শহীদ হয়েছেন, তাঁদের তালিকা তৈরি করে আনুষ্ঠানিকভাবে “জুলাই শহীদ” হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। একইসাথে ওই সময় সাহসিকতা ও নেতৃত্ব প্রদর্শনকারী জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের ‘জুলাই যোদ্ধা’ উপাধি দেওয়া হবে।
সরকার বলছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস আরও সুসংগঠিত হবে এবং নতুন প্রজন্মের কাছে সেই গৌরবগাথা পৌঁছে যাবে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় দ্রুত একটি যাচাই-বাছাই কমিটি গঠন করবে, যারা নির্দিষ্ট নথিপত্র, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য এবং মুক্তিযুদ্ধের দলিলপত্র বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত তালিকা প্রণয়ন করবেন।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, “জুলাই মাস ছিল মুক্তিযুদ্ধের টার্নিং পয়েন্ট। আমরা চাই এই সময়ের শহীদ ও যোদ্ধাদের অবদান আনুষ্ঠানিকভাবে ইতিহাসে স্মরণীয় করে রাখতে।”
এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে মুক্তিযোদ্ধা ও গবেষকদের অনেকেই। তাঁরা বলছেন, এ ধরনের স্বীকৃতি মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস সংরক্ষণে সহায়ক হবে।