
খুলনার কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকট, সরঞ্জামের ঘাটতি ও সেবাদানকারীদের অনুপস্থিতির কারণে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বর্তমানে ২০৬ জনের অনুমোদিত জনবলের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১০৭ জন, যার ফলে সীমিত জনবল দিয়েই খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে স্বাস্থ্যসেবা।
২০২২ সালের ৬ ডিসেম্বর ‘জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনী অ্যান্ড অবস)’ পদে ডা. ফাতেমা জোহরা পদায়ন পেলেও তিনি নিয়মিত রোগী দেখতেন না এবং খুব কম সময়ই হাসপাতালে উপস্থিত থাকতেন।
গণমাধ্যমে একাধিকবার অভিযোগ প্রকাশের পর তিনি সাময়িকভাবে সিজারিয়ান অপারেশন শুরু করলেও মাত্র ৫-৬টি অপারেশন করার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে খুলনায় বদলি হয়ে যান। এরপর থেকে সিজারিয়ান অপারেশন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
এছাড়া, হাসপাতালটিতে নেই আল্ট্রাসনোগ্রাফি মেশিন, প্যাথলজি বিভাগে কোনো জনবল না থাকায় সকল প্রকার ল্যাবরেটরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা বন্ধ। হাসপাতালের একমাত্র এনালগ এক্স-রে মেশিনটিও জায়গা না থাকায় ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বলেন, “খুলনা জেলা শহর থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৮টি মেডিকেল অফিসারের পদ থাকলেও বর্তমানে রয়েছেন মাত্র ৫ জন চিকিৎসক। তারা অভারডিউটি করে কোনো রকমে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। ২ লাখের বেশি মানুষের জন্য এই সংখ্যা অত্যন্ত অপ্রতুল। শয্যা ও চিকিৎসা সরঞ্জামেরও রয়েছে তীব্র ঘাটতি। রোগীদের অনেক সময় হাসপাতালের বারান্দায় চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।”
বাংলাদেশ মানবাধিকার ব্যুরো কয়রা উপজেলা শাখার সভাপতি তরিকুল ইসলাম বলেন, “কয়রা হচ্ছে খুলনার সবচেয়ে দুর্গম ও প্রত্যন্ত উপজেলা। এখানে গাইনী বিশেষজ্ঞ না থাকায় গর্ভবতী নারীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়েই জেলা শহরে যেতে হয়। এটা সরাসরি স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার শামিল। কিছু চিকিৎসককে ‘অন্তরে যোগদানের নির্দেশে’ পদায়ন করে বাস্তবে হাসপাতালে না রেখে কয়রাবাসীর সঙ্গে তামাশা করা হচ্ছে।”
স্থানীয়রা বলছেন, সরকারি উদ্যোগে দ্রুত সময়ের মধ্যে এখানে গাইনী বিশেষজ্ঞসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, যন্ত্রপাতি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন না করা হলে কয়রাবাসীর স্বাস্থ্যসেবা আরও ভয়াবহ সংকটে পড়বে।
প্রয়োজনে আমি এ নিউজের ভিডিও স্ক্রিপ্ট বা ভয়েস ওভার স্ক্রিপ্টও তৈরি করে দিতে পারি। চাইলে জানাবেন।