
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজান চর ইউনিয়নের চর ফকিরাবাদ এলাকায় সার্বজনিন রাস্তার কাজে রেখে দেওয়া জায়গা দখল করে মাটি ভরাটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বাসিন্দা চান্দু শেখের বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সরজমিনে দেখা যায় স্থানীয় ও প্রশাসনিক ভাবে মাপ দিয়ে লাল রঙের খুটি গেড়ে একটা জায়গা নির্ধারন করে রেখে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেই জায়গা দখল করে বালু দিয়ে ভরাট করেছেন স্থানীয় চান্দু শেখ এবং তার এই কাজে সহায়তা করার অভিযোগ রয়েছে উপজেলা যুবদলের এক নেতার।
স্থানীয় বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা আশেপাশের সবাই মিলে ২৬ ফুট জায়গা রাস্তার জন্য ছেড়ে দিয়েছি এবং সেই স্থানীয় মাতবর, গন্যমান্য ব্যাক্তি মাপ দিয়ে নির্ধারন করে রেখেছে। কিন্তু পাশের বাসিন্দা চান্দু শেখ সেই জায়গা দখল করে বালু ভরাট করেছে। তার ২৮ শতাংশ জমি সেখানে আরও দুই শতাংশ বেশি রয়েছে তারপরও তিনি এখান থেকে আরও দশফুট জায়গা দখল করে বালু দিয়ে ভরাট করেছে। তিনি গোয়ালন্দ থেকে বিএনপির এক নেতার জামাইকে এখানে এনে খুটি গেড়ে দিয়ে গেছে দেখেন। এগুলো সরকারি জমি না আমাদের নিজস্ব জমি আমরা অল্প অল্প করে রাস্তার জন্য রেখেছি সে জায়গা তিনি দখল করবেন কেন? এবিষয়ে আমরা ২৪ রোজায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে।
পাশের আরেক বাসিন্দা মাইনদ্দিন শেখ বলেন, আমি চার হাত জায়গা রেখে ভরাট করছি। একটি রাস্তা ২০ গজ দুর পর্যন্ত এসে আর হয়নি কারন চান্দু শেখ রাস্তার জায়গায় গাছ লাগিয়ে রেখেছেন। তৎকালীন ইউএনও এবং উপজেলা চেয়ারম্যান এসে তার গাছ কাটার কথা বললেও তিনি গাছ কাটেননি ফলে এদিকে আর রাস্তা আসেনি। হাজার হাজার মানুষের ভোগান্তি সৃষ্টি করেছেন আবার এখন অন্য সবার রেখে দেওয়া জমিতে মাটি ভরাট করেছেন।
সেলিম শেখ বলেন, আমরা চারজন লোক কমবেশি করে ২৬ ফুট জায়গা রেখে দিয়েছি। সেই জমি সে জোর করে মাটি ভরাট করছে। সে গোয়ালন্দ থেকে লোক নিয়ে আসে তারা মাপা জায়গা রেখে জোর করে নিজেরা খুটি গেড়ে দিয়ে যায়। এটাতো সরকারি জমি না এটা আমাদের নিজের জমি। চান্দু শেখ সবসময় টাকার গরম দেখায়। তার এক ছেলে বিদেশ থাকায় সবসময় বলে তোদের জমির এ-টাকা আমার পকেটে সবসময় থাকে। সে একা এক কথা বলে আর এলাকার সবাই এক কথা বলে।
অভিযুক্ত চান্দু শেখ ঘটনা স্থলে এসে বলে তাদের অভিযোগ সঠিক নয়। মাপের ব্যাপারে তিনি জানান তিনি তখন ছিলেন না। এছাড়া গোয়ালন্দ থেকে লোক ভাড়া করার বিষয়ে তিনি জানান তারা যখন আসছে তখনও তিনি ছিলেন। অথচও তারা জন্য জায়গা দখল করে দিয়ে গেছে।
অভিযোগের বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মুনতাসির হাসান খান বলেন, তারা অভিযোগ দেওয়ার পরপর অফিস ছুটি হয় যায় তাছাড়া বিষয়টি আমি জানতাম না। আজ বিষয়টি জেনেছি তাদেরকে রোববার অফিসে আসতে বলেছি। আগামী মঙ্গলবার তাদের উভয় পক্ষকে ডেকে মীমাংসা করার চেষ্টা করবো।