
শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় শারমিন গ্রুপের মালিকানাধীন কারখানার গাছের ডালপালার কারণে নিজের জমিতে ভবন নির্মাণ করতে পারছেন না এক ব্যবসায়ী। বিষয়টি সুরাহা করতে সরকারি দপ্তরে বারবার ধরণা দিয়েও কোনো প্রতিকার না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী। উল্টো সরকারি কর্মকর্তাদের টেবিল টু টেবিল ঘোরাঘুরিতে হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে দাবি তার।
এ ঘটনায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী মার্কেট মালিক সমীর কুমার নাগ।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকায় সাগর সুপার মার্কেটে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সমীর কুমার নাগ বলেন, নরসিংহপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত জমিতে তিনি ‘সাগর সুপার মার্কেট’ নামে একটি বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ করছেন। বর্তমানে ভবনটির দোতলার নির্মাণ কাজ চলছে। কিন্তু তার মার্কেটের সীমানা ঘেঁষা শারমিন গ্রুপের কারখানার ভেতরের বেশ কয়েকটি বড় মেহগনি গাছের ডালপালা সীমানা প্রাচীর অতিক্রম করে তার মার্কেটের ছাদ ও পিলারের ওপর চলে এসেছে। এতে নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে গেছে এবং ভবনের ক্ষতি হচ্ছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, আমি একাধিকবার শারমিন গ্রুপের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের অনুরোধ করেছি ডালগুলো ছেঁটে দেওয়ার জন্য। কিন্তু তারা বন বিভাগের দোহাই দিয়ে ডাল কাটতে অস্বীকৃতি জানায়।
প্রশাসনিক হয়রানির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী বলেন, গাছের ডাল কাটার বিষয়ে আমি প্রথমে বন কর্মকর্তাদের কাছে যাই। তারা আমাকে ইউএনও মহোদয়ের কাছে পাঠান। আবার ইউএনও মহোদয়ের কাছে গেলে তিনি বলেন, বন কর্মকর্তাকে বলে দেওয়া হয়েছে। এভাবেই এক টেবিল থেকে আরেক টেবিলে ঘুরে আমি দীর্ঘ দিন ধরে হয়রানির শিকার হচ্ছি কিন্তু কোন সমাধান পাচ্ছি না।
বন কর্মকর্তার প্রতিবেদন ও সরেজমিনে দেখা যায়, গত ১০ জানুয়ারি সাভার উপজেলা বন কর্মকর্তা মো. মজিবর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। বন কর্মকর্তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কারখানার গাছের ডালপালা সীমানা প্রাচীর অতিক্রম করে ওই ব্যবসায়ীর বাণিজ্যিক ভবনের ছাদের ওপর পড়েছে, যা নির্মাণ কাজে বাধা সৃষ্টি করছে। পরিদর্শনের সময় কারখানার কর্মকর্তারা জায়গাটি নিয়ে মামলা থাকার কথা বললেও বন কর্মকর্তার কাছে কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী আরও জানান, বন বিভাগের সুপারিশ এবং উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনাকেও তোয়াক্কা করছে না শারমিন গ্রুপ কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় তিনি আশুলিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (অভিযোগ) দায়ের করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্তকারী কর্মকর্তা সরেজমিনে জায়গা পরিদর্শন করেন। কিন্তু তিনি তাৎক্ষণিক ডাল কাটার কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে শারমিন গ্রুপের মালিকপক্ষের সঙ্গে বসবেন বলে কিছুদিন সময় চান। এদিকে দিনের পর দিন আমার নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে আছে, আমি চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছি। কিন্তু কারো কাছেই কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না।
প্রতিবেদনে প্রাচীর অতিক্রম করা ডালপালাগুলো কেটে দেওয়ার সুপারিশ করা হলেও এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে শারমিন গ্রুপের অসহযোগিতা ও দীর্ঘসূত্রিতার কারণে চরম বিপাকে পড়েছেন ওই ব্যবসায়ী। তিনি দ্রুত এই সমস্যার সমাধান চেয়ে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।