
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার রিফাতপুর ইউনিয়নে বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে পাঁচ ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় ৩২ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযুক্ত ব্যক্তি একই ইউনিয়নের ভেড়ামারা গ্রামের মৃত আহাদ আলীর ছেলে আদম ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীরা দৌলতপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,সাইফুল ইসলাম কম্বোডিয়ায় মাসিক ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে পাঁচজনকে বিদেশে পাঠান। সেখানে পৌঁছানোর পর তাদের কোনো চাকরির ব্যবস্থা করা হয়নি। বরং দীর্ঘদিন তারা চরম মানবেতর অবস্থায় রাস্তার পাশে দিনযাপন করতে বাধ্য হন।
ভুক্তভোগীরা জানান,বিদেশে নেওয়ার পর সাইফুল ইসলামের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করলেও তিনি কোনো কাজের ব্যবস্থা করতে পারেননি। প্রায় দুই মাস অপেক্ষার পর তারা নিজেদের পাসপোর্ট ও ভিসা যাচাই করে দেখতে পান, তাদেরকে চাকরির ভিসার পরিবর্তে তিন মাস মেয়াদি ট্যুরিস্ট ভিসায় কম্বোডিয়ায় পাঠানো হয়েছে।
পরিস্থিতির অবনতি হলে তারা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে দেশে ফেরার বিমান ভাড়ার টাকা সংগ্রহ করেন এবং নিজ খরচে দেশে ফিরে আসেন।
প্রতারিতরা হলেন রিফাতপুর ইউনিয়নের ভেড়ামারা গ্রামের জাহিদুল ইসলাম (৪১), আশরাফুল ইসলাম (৪০), নিজামুল ইসলাম (৪০), ইমন (২০) এবং খলিশাকুন্ডি ইউনিয়নের মজনু (৪১)।
ভুক্তভোগীদের দাবি, তাদের কাছ থেকে মোট ৩২ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। এই অর্থ সাইফুল ইসলাম তার স্ত্রী কল্পনা খাতুন ও জামাতা কামরুল ইসলামের মাধ্যমে লেনদেন করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
দেশে ফিরে টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম নানা টালবাহানা করেন এবং প্রভাবশালী নেতাদের নাম ভাঙিয়ে ভয়ভীতি ও হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মর্তুজা বলেন,“অভিযোগটি আমরা পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”